০৪ জুলাই, ২০২৩ ০৩:১৬ পিএম

আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় এবার হাইকোর্টে মামলা করবেন স্বামী ইয়াকুব আলী

আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় এবার হাইকোর্টে মামলা করবেন স্বামী ইয়াকুব আলী
ফাইল ছবি।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুমিল্লা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার পথে মাহবুবা রহমান আঁখির রক্তক্ষরণ হওয়ার বিষয়টি যারা বলছেন, তারা না জেনেই বিষয়টি নিয়ে এভাবে বলছেন। এমন মন্তব্য করেছেন প্রয়াত আঁখির স্বামী মো. ইয়াকুব আলী সুমন।

আজ মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর গ্রিন রোডে সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের তদন্ত দলের আহ্বানে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আঁখির যতটুকু রক্তক্ষরণ হয়েছে, পুরোটাই হাসপাতালে আসার পর হয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার পথে রক্তক্ষরণ হওয়ার বিষয়টি যারা বলছেন, তারা না জেনেই বলছেন।’

তিনি বলেন, আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় বিএমডিসিতে একটি অভিযোগ করেছি, থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। হাইকোর্টে আরেকটি মামলা করবো। এ ছাড়াও শ্বাশুরী আরেকটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

‘আজকে তদন্ত দল আমাকে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে’, বলেছেন তিনি।

জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল বলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।

প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে ভর্তি করা হয় মাহবুবা রহমান আঁখিকে। তখন ডা. সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন।

অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি।

গত ১৪ জুন ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন ইয়াকুব আলী। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রসব পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা মাহবুবা রহমান আঁখি গত ১৮ জুন দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

পরর্বীতে মাহবুবা রহমান আঁখি ও তার নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে নিজের ওপর আরোপিত অভিযোগের জবাব দিতে গত ২০ জুন দুপুরে রাজধানীর পরিবাগে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডা. সংযুক্তা সাহা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সেন্ট্রাল হসপিটাল আমার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করেছে। তারা এমন অনিয়ম করবে, আমি ভাবতেও পারিনি। এ ঘটনায় সম্পূর্ণ দায় সেন্ট্রাল হাসপাতালের, তারা সরাসরি বলতে পারতো সংযুক্তা সাহা হাসপাতালে নেই। কিন্তু তারা এটা না বলে অপরাধ করেছে।’

পাল্টা অভিযোগে একই দিন বিকেলে হাসপাতালের ম্যানেজার (বিজনেজ ডেভেলপমেন্ট) মো. মামুনুর রশিদ রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই ডা. সংযুক্তা সাহা চেম্বার বন্ধ রেখে বিদেশে গেছেন।

মো. মামুনুর রশিদ রাসেল বলেন, ‘ঘটনার দিন ডা. সংযুক্তা সাহা চেম্বার বন্ধ রাখবেন, এটা আমাদের জানাননি। উনি দেশে নেই এটা আমরা জানতে পেরেছি, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর।’

তিনি বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে আমাদের অফিসিয়াল কোনো এসিস্ট্যান্ট কাজ করেনি। অফিসিয়াল নিয়ম হলো, কেউ দেশের বাইরে গেলে আমাদের আগে থেকে জানাবেন, কিন্তু ডা. সংযুক্তা সাহা এমন কোনো নোটিশ আমাদের দেননি।’

তবে তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত বলে জানায় সেন্ট্রাল হাসপাটাল। কিন্তু ‘মানহানিকর বক্তব্য’ দেওয়ায় পর দিন ২১ জুন অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে আগামী সাত দিনের মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

এএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সেন্ট্রাল হাসপাতাল
পুনরায় সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

পুনরায় সংশোধন হচ্ছে সাইবার আইন

গুজব-অপতথ্য ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক