চিকিৎসক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ: সারাদেশে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসায় প্রসূতি মাহবুবু রহামান আঁখি ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় ২ চিকিৎসক গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আজ সোমবার (১৭ জুলাই) ও আগামীকাল মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে প্রাইভেট চেম্বার ও অপারেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও অবস্ট্রেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনেকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) যৌথভাবে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর সাথে একাত্মততা পোষণ করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি ও বাংলাদেশ অটিজম এন্ড ডিজএবিলিটি ইন্সটিটিউট (বাডি)।
ওজিএসবির এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ১টায় সব চিকিৎসক সোসাইটির নেতারা বিএমএর সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কার্যালয়ে সভা করেছেন। এতে সেন্ট্রাল হাসপাতালের প্রসূতি ও নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় দুইজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
১. ১৭ ও ১৮ জুলাই সরাদেশে সব প্রাইভেট চেম্বার এবং প্রাইভেট অপারেশন বন্ধ থাকবে।
২. আগামী ১৮ জুলাই আবারও বিএমএর সাথে বসে পরবর্তী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এসব কর্মসূচিতে ওজিএসবির ও অন্যান্য সোসাইটির সব সদস্যের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন চিকিৎসক নেতারা।
প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাল হসপিটালের অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার (গাইনি) অধীনে গত ৯ জুন ভর্তি হয়েছিলেন মাহাবুবা রহমান আঁখি। কিন্তু সে দিন ডা. সংযুক্তা হাসপাতালেই ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী চিকিৎসক আঁখির ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জটিলতা দেখা দেওয়ায় নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়। একই সঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১০ জুন বিকেলে আঁখির নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রোববার (১৮ জুন) দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহবুবা রহমান আঁখি।
টিআই