অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বি
পেডিয়াট্রিক্স বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল মেডিকেল বিশ্বদ্যিালয়
০৭ অগাস্ট, ২০২৩ ১১:০৪ এএম
সেন্ট্রালের ঘটনায় প্রতিবেদন: মৌলিক দুর্বলতা না সারালে দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে
রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা ট্রাজেডির ঘটনায় তিন পক্ষকেই দায়ী করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়! একদম কাজীর বিচার! কাউকে কমও দেয়া হয়নি। বেশিও দেয়া হয়নি। ভাগ সমানে সমান!
তবে আসল কথাটা আসেনি। একটা সিস্টেম সম্পূর্ণ ভেঙে পড়লেই সব অঙ্গ ধসে যায়।
১. স্বাস্থ্য সেবা ও সেবকদের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। অবিরাম নেতিবাচক প্রচারের ফলে ইয়াকুব আলীর মতো মানুষরা কুমিল্লার দক্ষ ডাক্তারদের উপরও বিশ্বাস রাখতে পারেন না।
২. প্রাইভেট ক্লিনিক/হাসপাতালের নীতি নিয়ম প্রয়োগের কোনো মনিটরিং নেই। কিভাবে একজন অনুপস্থিত ডাক্তারের নামে রোগী ভর্তি হতে পারে?
৩. সরকারি হাসপাতালে ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত না করে মানুষকে বেসরকারি ব্যবসায়িক হাসপাতালে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, শনিবারের (৫ আগস্ট) পত্রিকায় ও সরকারি হাসপাতালের সিঁড়িতে রোগীর ছবি ছাপা হয়েছে।
৪. ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীকে বিরামহীন অবমূল্যায়ন! ডেঙ্গিতে রোগীর মৃত্যুর খবর আসছে। ডাক্তারদের মৃত্যুর খবর অবহেলিত।
৫. রেফারেল সিস্টেম না থাকায় রোগীও জানে না, কোথা থেকে কোথায় যাবে, কেন যাবে।
৬. স্বাস্থ্যবীমা না থাকায় হঠাৎ খরচের সম্মুখীন হলে রোগী ডাক্তারের উপর চড়াও হয়।
৭. ডাক্তারের কাজ কি রোগী জানে না। হাসপাতালে বিছানা না থাকলে রোগী ডাক্তারের উপর চড়াও হয়।
৮. মশা না মারায় ডেঙ্গি। এর দায় কার, সুস্পষ্ট। অথচ সেই মৃত্যুর দায়ও ডাক্তারকেই বইতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এসব মৌলিক দুর্বলতা বা ক্ষত না সারিয়ে একে- তাকে দায়ী করলে ঘটনা-দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।