১২ মে, ২০২৩ ১০:১৩ এএম

পেশা নয়, নার্সিং একটি সেবা

পেশা নয়, নার্সিং একটি সেবা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ২৩ জন নার্স থাকার কথা। যদিও বাংলাদেশে এই সংখ্যা মাত্র ২ জন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: একজন রোগীকে সুস্থ করতে চিকিৎসকের পাশে থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে সেবা দিয়ে যান নার্সরা। তারা ২৪ ঘণ্টা রোগীর সেবায় নিয়োজিত থাকেন। তাই প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নার্সদের দক্ষ করতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান সরকার নার্সদের পদবি ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উন্নীত করেছে এবং নার্সিং শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কর্মক্ষেত্রে তাদের মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করেছে।

আজ ১২ মে, আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ।’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ), সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এসএনএসআর) ও নার্সদের অন্যান্য সংগঠন শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

মূলত সমাজের প্রতি নার্সদের অবদান ও মানুষের সেবায় যেভাবে তারা কাজ করেন, তা সবার সামনে তুলে ধরতে সারা পৃথিবীতে দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নার্সিং একটি আন্তর্জাতিক মহৎ পেশা। নার্সরা সর্বদা স্বাস্থ্যখাতে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারি মোকাবিলা, শতভাগ ভ্যাকসিন প্রদানসহ দেশের যেকোনো সংকটকালে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। করোনা রোগীর সেবা দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৩ জন নার্স। এ সময় আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ৬ হাজার। নার্সদের এই অসামান্য ও কঠোর পরিশ্রমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত আজ বিশ্বের দরবারে প্রশংসনীয়।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন রেজিস্টার্ড নার্স প্রয়োজন। বাংলাদেশে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স রয়েছে মাত্র ৭৭ হাজার ৮৩৮ জন। দেশের প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকের অনুপাতে বর্তমানে নার্স থাকার কথা ৪ লাখ ৮ হাজার জন। কিন্তু দুঃখের বিষয় চিকিৎসকদের অনুপাতে নার্সের ঘাটতি ৩ লাখ ৩০ হাজার ১৬২ জন। এরমধ্যে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সের সংখ্যা মাত্র ৪২ হাজার ৩৩০ জন। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার বিপরীতে ২৩ জন নার্স থাকার কথা। যদিও বাংলাদেশে এই সংখ্যা মাত্র ২ জন। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য ধারণ করে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে অধিক সংখ্যক নার্স নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটসসহ বিভিন্ন নার্স সংগঠন। নার্সিং শিক্ষা ও এই সেক্টরকে আধুনিকায়ন করাসহ বিশেষ এই পেশায় নিয়োজিতদের সকল দাবি পূরণের দাবি জানিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক ধাত্রী পরিষদ বা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব নার্সেস (আইসিএন) ১৯৬৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন করে আসছে। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কল্যাণ বিভাগের একজন কর্মকর্তা ডরোথি সাদারল্যান্ড তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি আইজেনহাওয়ারে কাছে ধাত্রী দিবস ঘোষণা করার প্রস্তাব করেন। তবে তিনি তা অনুমোদন করেননি।

পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে, ১২ মে দিনটিকে নার্স দিবস হিসেবে উদযাপনের জন্য নির্বাচন করা হয়। কারণ, এই দিনে আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মবার্ষিকী। ১৮২০ সালের এই তারিখে আধুনিক নার্সিং পরিষেবার পথপ্রদর্শক ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্ম হয়েছিল। যুগে যুগে অন্ধকার দূরে সরিয়ে আলোর পথে এগিয়ে নিতে জন্মান কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। নামের মতোই আলো ছড়িয়েছিলেন বিশ্বে। এই দিবস পালনের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয় সেই নারীকে, যিনি তার কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন-নার্সিং একটি পেশা নয়, সেবা।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : আন্তর্জাতিক নার্স দিবস
জুলাই উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা 

হামলা-হুমকি উপেক্ষা করেই আহতদের সেবা দেন চিকিৎসকরা: এনডিএফ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক