রমাদানে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ রোজার শিক্ষার সঙ্গে বেমানান
দিনের বেলায় পানাহার ও স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মিলন থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। তবে রোজার মূল মাহাত্ম লুকায়িত আছে আত্মশুদ্ধি ও ক্ষুধাতুর মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরির মধ্যে। ফলে এ মাসে খাদ্য উৎসবে মেতে উঠলে এর প্রকৃত স্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়।
তাই রোজার মূল উদ্দেশ্য অর্জন করতে চাইলে সব কিছুতেই সংযমের নীতি অবলম্বন করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) এমনিতেই খুব কম খেতেন। হাদীসে এসেছে, তিনি কখনোই পেট ভর্তি করে খেতেন না। হজরত মিকদাম ইবন মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, মানুষ যে পাত্রটি পূর্ণ করে, তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো পেট। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন হলে পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (ইবনে মাজাহ)
আধুনিক বিজ্ঞানের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের জন্য এক তৃতীয়াংশ খালি রাখা হলে তা ডাইজেশনের কাজে লাগে।
রমাদানে রাসুলের (স.) খাদ্যাভ্যাস
রমাদান সংযমের মাস। এ মাসে ইবাদাতের সুবিধার্থে এমনিতেই রাসুল (স.) কম খেতেন। ইফতারিতে তিনি হয় কয়েকটি খেজুর খেতেন, তা না পেলে তাঁর ইফতারিতে থাকতো কয়েক ঢোক পানি। সাহরিতে তিনি কয়েকটি খেজুর খেতেন। রমাদানে রাসুল (স.) এভাবে তাঁর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করেছেন।
এতো কম খাবার গ্রহণের কারণ হলো, সারা দিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারিতে প্রচুর পরিমাণে খেলে শরীর ভারি হয়ে যাবে। খুব আলস্য পেয়ে বসবে। তাহলে পরবর্তীতে কোনো ইবাদাতই করা সম্ভব হবে না। এতে মাগরিব, এশা ও তারাবিহসহ যে কোনো ইবাদাতই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।
পেট ভরে খাওয়ায় রোগের সৃষ্টি
রাসুল (স.) বলেছেন, তোমরা পেট পূর্ণ করে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকো। এটি তোমাদের অলসতা তৈরি করে। বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, কেউ যদি ফাস্টিং করে অর্থাৎ রোজা রাখে, তাহলে এর মাধ্যমে ক্যান্সারের যে সেলগুলো তৈরি হয়, সেগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
রাসুল (স.) রমাদানে অনেক কম খেতেন। কারণ রাতে তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ও ক্বিয়ামুললাইল রয়েছে। আবার শেষ রাতে সাহরিতে অনেক বেশি খেলে শরীরে অলসতা কাজ করবে। শরীর ভারি হয়ে যাবে, কাজ করতে অসুবিধা হবে।
ক্ষুধার্থদের কষ্ট বুঝতে চাই সংযম
উদর পূর্ণ করে খাবার গ্রহণ করলে যারা খাবার পান না, সেসব দরিদ্র মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরি হবে না। সংযমের এই মাসে দরিদ্রদের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করার পাশাপাশি তাদেরকে কিছু খাদ্য-পানীয় প্রদান করতে হবে। এজন্য রাসুলের (স.) সুন্নাহ হলো রমাদানে কম খাওয়া।
কেউ কেউ বলে থাকেন, রমাদানে বেশি খাবার খেলে আল্লাহ এর কোনো হিসাব নেবেন না। মূলত এগুলো মিথ্যা কথা, এর কোনো সত্যতা নেই। রাসুল (স.) এবং তাঁর সাহাবীদের কেউই এ রকম করেননি। সুতরাং রমাদানে কম খেলে সুস্থ থাকা যাবে, এবং বেশি বেশি ইবাদাতও করা যাবে।
অধ্যাপক মোখতার আহমাদ
পরিচালক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি