০৯ মার্চ, ২০২৩ ০৬:২০ পিএম

দুই কোটি কিডনি রোগীর ৪০-৫০ লাখই শিশু

দুই কোটি কিডনি রোগীর ৪০-৫০ লাখই শিশু
চিকিৎসকরা বলছেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। আর প্রতি বছর কিডনী রোগে মারা যায় ৪১ লাখ।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশের দুই কোটি কিডনি রোগীর মধ্যে ৪০-৪৫ লাখই শিশু বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি (শিশু কিডনি) বিভাগ। চিকিৎসকরা বলছেন, সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। আর প্রতি বছর কিডনী রোগে মারা যায় ৪১ লাখ। এর মধ্যে ২৪ লাখ মানুষ ধীর গতিতে এবং আকস্মিক কিডনি বিকলে মারা যায় আরো ১৭ লাখ মানুষ।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বিএসএমএমইউর পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি (শিশু কিডনি) বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে র‌্যালিসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় বিএসএমএমইউর বটতলা থেকে বিএসএমএমইউর উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে বিএসএমএমইউর ডি ব্লকের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর ভিসি শিশু কিডনি রোগীদের রোগ প্রতিরোধের উপর গুরুত্বারোপ করেন ও করোনা মহামারীর সময়ে শিশু কিডনি রোগীদের হেমোডায়ালাইসিস সেবা দেওয়াসহ কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ওই বিভাগের শিক্ষক চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান। অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বিএসএমএমইউয়ে শিশু কিডনি রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে হেমোডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দেন। সবশেষে শিশু কিডনি বিভাগের শিক্ষক চিকিৎসকদের একটি টিম শিশু কিডনি রোগীদের নিয়ে পদ্মা সেতু ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা। আর পদ্মা সেতু ভ্রমণ করে সেখানে আনন্দপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেন।

বিএসএমএম পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজি (শিশু কিডনী) বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত রয়েছেন। আর প্রতি বছর কিডনী রোগে মারা যায় ৪১ লাখ (২৪ লাখ মানুষ ধীর গতিতে আকস্মিক কিডনি বিকলে মারা যায় আরো ১৭ লাখ মানুষ)। বাংলাদেশে বর্তমানে দুই কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছে। তার মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ লাখ শিশু কিডনি রোগে ভুগছে। বাংলাদেশে শিশু কিডনি রোগীদের চিকিৎসার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২ সালে।

বিএসএমএমইউর শিশু বিভাগের একটি ইউনিটে আটটি শয্যা নিয়ে এবং ওই সময়েই প্রথম পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস শুরু হয় । প্রথম কিডনি বায়োপসি করেছিলেন অধ্যাপক মনিমুল হক। এরপর নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও এই বিভাগ শিশু কিডনি রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালে প্রথম পেডিয়াট্রিক্স হিমোডায়ালাইসিস শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে প্রথম শিশুদের কিডনি প্রতিস্থাপন করে।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক