রেসিডেন্সি পরীক্ষা: ১৪১৪ আসনের বিপরীতে প্রার্থী ৯১৭৪
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এমডি-এমএস কোর্সে এবার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে এক হাজার ৪১৪ জন চিকিৎসকে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
আজ শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রেসিডেন্সি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে মেডিভয়েসকে এ তথ্য জানান তিনি।
ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পরীক্ষার বিষয়ে অনকে গণমাধ্যমকর্মী জানতে চেয়েছিলেন ১০ ডিসেম্বর যেহেতু বিএনপি’র সমাবেশ রয়েছে, সেক্ষেত্রে ৯ ডিসেম্বরের পরীক্ষা পেছানো হবে কিনা? আমি তাদেরকে বলেছিলাম, আমরা এগুলো মানি না।’
এমডি-এমএস কোর্সে এবার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে পরীক্ষায় ৯ হাজার ১৭৪ জন চিকিৎসক অংশ নেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর বিপরীতে এক হাজার ৪১৪ জন চিকিৎসকে ভর্তি করা হবে। ‘আমরা স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করার ব্যাপারে সবসময় প্রস্তুত আছি। এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যান্য বছরের গড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। এবার দুই থেকে তিনিশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ভালো।’
ভিসি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। সব ধরনের প্রশ্ন দেওয়া ও নেওয়াসহ পরিদর্শকের উপস্থিতি অন্যান্য বছরের ন্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুনাম আছে। যে কোনো পরীক্ষা আমরা ওএমআর এর মাধ্যমে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করি। এতে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয় এবং কোনও প্রশ্ন ফাঁসের প্রশ্ন ওঠে না, কোনো রকম অসততা, অন্যায় এখানে হয় না।
মেডিকেলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিশেষজ্ঞ তৈরি করি এবং সমস্ত মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের তৈরি করি। এখানে পিএইচডি, এডভান্স ফেলোশিপ কোর্স চালু করেছি।’
‘কেউ আঙ্গুল বা হাত নিয়ে কাজ করবে, তার জন্য এক বছরের এডভান্স ফেলোশিপ কোর্স রয়েছে। যারা নিউরোসার্জারি, স্কালভিস ট্রেনিং নিবে, তাদের জন্য আলাদা এডভান্স ফেলোশিপ ট্রেনিং আছে। এ রকমভাবে পিএইচডিসহ এডভান্স ফেলোশিপ করেছি। ভবিষ্যতে বেসিক সাবজেক্টে শিক্ষক নেই, এরকম যেসব প্রতিষ্ঠানে ফ্যাকাল্টি আছে, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজে আমরা আরও ছাত্র বৃদ্ধি করে এই সঙ্কট দূর করব, যোগ করেন বিএসএমএমইউ ভিসি।’
ভিসি আরও বলেন, ‘আমরা মেডিকেল শিক্ষাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই, যেন ভবিষ্যতে বিশেষজ্ঞ তৈরিসহ মেডিকেল শিক্ষক তৈরিতে আর কোনো রকম ব্যাঘাত না ঘটে। সে দিকে খেয়াল রাখবো। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, সবার সহযোগিতা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সমস্ত বিষয়ে শুধু সেবা ও শিক্ষা নয়, গবেষণার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অর্থ প্রদান করছেন। যার মাধ্যমে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি আমরা গবেষণা খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ১৫ হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়। আর বিএসএমএমইউতে ১৫০০ টাকা নিবে। আগে ১২০০ টাকা ছিল, এখন ১৫০০ টাকার নেওয়ার একটি প্রস্তাবনা অর্থ কমিটি দিয়েছে।’