চিকিৎসাব্যবস্থা সিঙ্গাপুর, আমেরিকা থেকে উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে চাই: স্বাচিপ সভাপতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা সিঙ্গাপুর, আমেরিকা থেকে উন্নত জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
আজ রোববার (২৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডা. মিলন চত্বরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খাঁন ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
অধ্যাপক ডা. জামাল বলেন, চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা গবেষণার দিকে মনোযোগ দিন। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। স্বাস্থ্যখাত সুন্দরভাবে উন্নত হচ্ছে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশে এখনও সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ১৬ কোটি মানুষের দেশে গ্রামের জনগণ সংখ্যাধিক্য, কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা সংখ্যাধিক্য। গ্রাম শহরের বৈষম্য, ধনী-গরিবের বৈষম্য যেখানে বিদ্যমান, সেখানে চিকিৎসকরা বলেন, রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাটা আগে করা দরকার। রোগ চিকিৎসার বদলে প্রতিরোধ করা। সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা হলো যা রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বড় বড় হাসপাতাল তৈরি করেছি। প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। শুধু ১২ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, এ ছাড়া আর কিছুই নেই।
সাবেক তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটা করে স্বাস্থ্য ক্লিনিক থাকতো, তাহলে সকালবেলা ঢাকা মেডিকেলে এসে ধরনা দিতে হতো না। আশুলিয়া-সাভারে ভালো স্বাস্থ্য ক্লিনিক থাকতো তাহলে মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেত। কিন্তু আমরা সকাল থেকে ঢাকা মেডিকেলের এসে ধরনা দেই। ডাক্তার-নার্সদের গালাগালি দেই। কারণ এত রোগী দেখা সম্ভব হয় না।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রতিদিন কয়টা লাশ বের হয়? চিকিৎসকরা আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। সাংবাদিকরা এমনভাবে লেখেন মনে হয়, ডাক্তাররা চিকিৎসা দেন না। চিকিৎসকরাই করোনা মোকাবিলা করেছেন।’
হাসানুল হক বলেন, ‘সামনে থেকে করোনা মোকাবিলা করেছেন ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ড বয়রা। কতজন ক্ষতি পূরণ পেয়েছেন? যাক সেদিকে যাবো না। কোভিড যোদ্ধাদের প্রতি স্মরণ করি। এখনও ডাক্তার-নার্সরা আমাদেরকে টিকিয়ে রেখেছেন। অনেকেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাই। আসলে আপনারাই আমাদেরকে চিকিৎসা দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা অনেক ভালো চিকিৎসক। আপনারা অধ্যাপক হন, চেয়ারম্যান হন, ডিজি হন কিন্তু এ গ্রেড হন না, দ্বিতীয় গ্রেডেই রয়ে গেছেন। কেন হন না? আমি বুঝি না। আমি আশা করেছি, প্রধানমন্ত্রী সামনে সচিব সভায় আপনারা বলবেন, এ গ্রেড চাই। বললেন, কোথায় আমি শুনি না তো। আমি রাজনৈতিক কর্মী সংসদে চিৎকার করবো, বাইরেও চিৎকার করবো। কিন্তু আপনাদের তো কান্না করতে হবে। কেন এ গ্রেড হবে না? সচিবরাই কি দেশ চালায়। এ পেশাজীবিরাই উৎপাদনের চাকা ঘুরায়।’
-
২৭ নভেম্বর, ২০২২