২৮ অক্টোবর, ২০২২ ০১:৫৪ পিএম

প্রয়োজন ৫ হাজার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের, আছে ২২৮ জন

প্রয়োজন ৫ হাজার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের, আছে ২২৮ জন
অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ২২৮ জন, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্যান্সার চিকিৎসায় অসামান্য অবদান রাখার জন্য অনুষ্ঠানে ৬ জনকে মরণোত্তর ও ৮ জন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স (বিসিপিএস) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) ক্যান্সার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির জন্য ছাত্র ভর্তি ও পড়ানো হয়- এমন সব প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সার বিষয়ের নামকরণের ভিন্নতা থাকায় চিকিৎসক নিয়োগে জটিলতার কথা বলা হয় অনুষ্ঠানে।

ক্যান্সার বিষয়ের নামের জটিলতা সমাধানের জন্য বিএসএমএমইউ‘র পক্ষ থেকে সব প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি সমান হিসেবে বলা হয়। বিএসএমএমইউ ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ও বিসিপিএসের সভাপতি নামের জটিলতা কাটানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। 

আজ শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নবীন প্রবীণ সম্মেলন-২০২২’ উপলক্ষে  বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট (বিএসআরও) কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ২২৮ জন, যা জনসংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। বিএসআরও'র মতে পাঁচ হাজার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার বিষয়ের ফ্যাকাল্টি মেম্বার যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তবে আমার ক্যাম্পাসেই আগামী সেশনে আসন সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জনে উন্নীত করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল স্বাস্থ্য সেবার মতো ক্যান্সার সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার ইনস্টিটিউট করার সিদ্ধান্তের ফলে আমরা আশান্বিত হয়েছি। এখানেও অনেক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজন হবে।’

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারীর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ কোটি লোকের মধ্যে ১২ লাখ মানুষ মারা যায়। সে হিসেবে বাংলাদেশর ৬ লাখ মানুষ মারা যাবার কথা। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনিটরিং, দিক নির্দেশনা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশে মাত্র ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের প্রয়োজনে প্রতিটি জেলায় আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করতে বয়সের বাধা তুলে দিয়ে স্বল্প সময়ে অ্যানেসথিওলজিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টিং অনলাইনে দেয়া চালু করেছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট অনলাইনে চালু করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের হৃদরোগের রোগীরা বিদেশে যেতো। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের তালিকায় প্রথম ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। দেশের হৃদরোগের চিকিৎসায় অনেক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে বিদেশ যাবার রোগীর তালিকায় হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা তৃতীয়। তবে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ তালিকায় প্রথম। তাই এ বিষয়ে চিকিৎসক বাড়ানো সময়ের দাবি।

ক্যান্সারসহ সকল চিকিৎসাই সময় নিয়ে পরিকল্পনা মাফিক করা উচিত বলেও জানান বিসিপিএস সভাপতি। 

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিয়েশন অনকোলজিস্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক অর্জন সম্পর্কে প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাদিয়া শারমিন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরও’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. কাজী মুশতাক হোসেন। 

অনুষ্ঠানে বিএসআরও'র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. নিজামুল হক, অধ্যাপক ডা. নাজির উদ্দিন মোল্লাহ্, সদস্য অধ্যাপক সারোয়ার আলম, অধ্যাপক ডা. আব্দুল বারী, প্রকাশনা সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ডা. মামুন উর রশিদ প্রমূখসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত