২২ এপ্রিল, ২০২২ ১০:৩৪ এএম

ইন্টার্নশিপের দাবিতে কেয়ার মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইন্টার্নশিপের দাবিতে কেয়ার মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ফাইনাল প্রফে উত্তীর্ণ হয়েও গত ছয় মাস ধরে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছেন না কেয়ার মেডিকেল কলেজের ৩৬ জন শিক্ষার্থী।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও গত ছয় মাস ধরে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাচ্ছেন না কেয়ার মেডিকেল কলেজের ২০১৫-২০১৬ সেশনের ৩৬ জন শিক্ষার্থী।

এ অবস্থায় অবিলম্বে ইন্টার্নশিপের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তারা। বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন করেন ইন্টার্নশিপবঞ্চিত এসব চিকিৎসক।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা ৩৬ জন শিক্ষার্থী ফাইনাল প্রফ পাস করে গত ছয় মাস ধরে পথে পথে ঘুরছি। বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন না থাকায় আমরা ইন্টার্নশিপ শুরু করতে পারছি না। যেখানে এপ্রোন পড়ে হাসপাতালে আমাদের ডিউটি করার কথা, সেখানে নিজেদের ন্যায্য দাবি ও অধিকারের জন্য আজকে রাজপথে, কলেজ কর্তৃপক্ষ, বিএমডিসি, বিএমএ, ডিজিএইচএস—সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।’

তারা বলেন, ‘আমাদের ব্যাচ হাইকোর্টে রিট করা ব্যাচ নয়, আমরা বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী। আমাদের ভর্তির সময় কলেজ কালো তালিকাভুক্ত ছিল না। আমরা পরিস্থিতির শিকার। মানসিক অবস্থা এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করে আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষার আবেদন করছি। আমরা আপনাদেরই অংশ, আমাদেরকে সাহায্য করুন।’

শিক্ষার্থীরা জানান, বিএমডিসির শর্ত অনুযায়ী, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি, রোগী ও চিকিৎসক। কলেজটিতে ব্যাপক শিক্ষক সংকট, কলেজ থেকে হাসপাতালের দূরত্ব অনেক। কলেজ হাসপাতালটিতে ২৫০ শয্যা থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১৭৯ শয্যা, সংকট রয়েছে আরও ৬১টি শয্যার। এসব কারণে বিএমডিসির অনুমোদন পাচ্ছে না কলেজটি। 

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠার আট বছরেও এসব সংকট কাটানোর কোনো উদ্যোগও নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

তারা জানান, ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সুযোগ পেলেও শুরু থেকেই মেলেনি বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন। যদিও ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীদেরকে করোনাসহ বিশেষ মানবিক দিক বিবেচনায় ২০২০ সালে ইন্টার্ন করার সুযোগ দিয়েছিল বিএমডিসি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিএমডিসির অনুমোদন না থাকার কথা জানার পর পরই অভিভাবকদের নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন তারা। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেন, এমবিবিএস শেষ হতে হতে তারা বিএমডিসির অনুমোদন পেয়ে যাবেন। কিন্তু মাস গিয়ে বছর গড়ায় তারপরও তারা অনুমোদন পায়নি। 

শিক্ষার্থীদের জানানো হয়, হয় অনুমোদন না হয়, অন্য কলেজে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করে দিবেন কর্তৃপক্ষ এবং এসব বিষয়ে তাদেরকে যথাসম্ভব সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই অবস্থা থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। তারা এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাত্তাই দিচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বারবার কলেজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থানা পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এতে ৩৬ জন শিক্ষার্থীর মনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিএমডিসি অনুমোদিত চিকিৎসক হওয়া নিয়ে

এদিকে অনুমোদন বা মাইগ্রেশন নিশ্চিতের দাবি নিয়ে কলেজের চেয়ারম্যান বা অধ্যক্ষের কাছে গেলে তারা শিক্ষার্থীদের নানাভাবে এড়িয়ে চলছেন। তাঁরা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন, আবার ব্যস্ততার কথা বলে অন্যত্র চলে যান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের জন্য অনুমোদন বা অন্য কলেজে মাইগ্রেশনের জন্য বিএমডিসি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে গেলে তাদেরকে বলা হয় বিএমডিসিতে যেতে, আবার বিএমডিসিতে গেলে বলে পরামর্শ দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে যাওয়ার। কিন্তু নানাজনের নানা পরামর্শে একেকবার একেক দিকে গেলেও কোনোভাবেই মিলছে না সমাধান। এমন ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন ইন্টার্ন প্রত্যাশী এসব নবীন চিকিৎসক। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক