‘কেয়ার শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনে কোনো জটিলতা নেই’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: কেয়ার মেডিকেলের মাইগ্রেশন নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কেয়ার কর্তৃপক্ষের কাঙিক্ষত সহযোগিতা পেলে এটি দ্রুতই সমাধান হবে।
সম্প্রতি মেডিভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে এ রকম দুটি ঘটনা সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পেরেছি এবং তা আমার হাত দিয়েই হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন স্যার নির্দেশনায় কাজগুলো আমি সম্পন্ন করি। এগুলো হলো: রাজশাহীর শাহ মাখদুম ও রংপুরের নর্দান মেডিকেল কলেজ। তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর অনুমতি বাতিল হলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অন্যান্য মেডিকেল কলেজে যুক্ত করে দিই। একই প্রক্রিয়ায় কেয়ার মেডিকেলের শিক্ষার্থীদেরও বিভিন্ন মেডিকেলে মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করা যাবে। তবে এটা নির্ভর করছে আমাদের সঙ্গে কেয়ার কর্তৃপক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনা। চিঠির ভাষা অনুযায়ী তারা অগ্রসর হলে দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে। সুতরাং মাইগ্রেশন আদৌ কোনো সমস্যা না।’
পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পদক্ষেপ
ভবিষ্যতে বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের এ রকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরকে কষ্ট করে আমাদের ওয়েবসাইটটা ভিজিট করার অনুরোধ করবো। সেখানে কোন কোন মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তির অনুপযোগী, তার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং তাঁরা অল্প টাকায় সন্তানকে মেডিকেলে ভর্তি করার লোভে পা না দিলেই এখানে আমরা সফল হবো। প্রিয় সন্তানদের জীবনও সুরক্ষিত হবে। অন্য যেসব মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো স্থগিত করা হয়েছিল, তারা হাইকোর্টের রায় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সুতরাং কোর্টের রায়ের বিষয়ে তো আমরা কিছু বলতে পারবো না।’
এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আইনি দিকটা সামলাতে পারে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি জেনে খুশি হবেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগদানের পর ২০২১ সালে অ্যাডভোকেট ইউনুস আলীকে নিয়মিত আইনজীবী হিসেবে আমরা নিয়োগ দিয়েছি। তিনি আদালতে অধিদপ্তরের হয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়াও বিষয়গুলো দেখতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইনজীবী আছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী আছেন। সরকারের আইনজীবী আছেন। তারা সবাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সমন্বয়ের কিছুটা ঘাটতি আছে। আমাদের আইনজীবী থাকাতে সম্প্রতি নাইটিঙ্গেল মেডিকেল নিয়ে আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। অনুমোদনহীন বেসরকারি মেডিকেল ইস্যুতে আইনগত দিক থেকে আমরা খুবই ইতিবাচক অবস্থানে আছি। সুতরাং আমি মনে করি, আইনজীবী যত অনুজই হোন না কেন, এজলাস চলাকালীন তিনি উপস্থিত থাকলেই আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। অনুমোদনহীন কলেজগুলো কুলাতে পারবে না।’
এ ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলেই সব কিছু পেরে উঠি না। আমাদের আশা, অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধে আমরা সক্ষমভাবে আদালতে লড়বো। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আজকে যেই বিষয়টি আবেদন করি, দেখা যাবে এটি ছয় মাস পর উঠবে। তত দিনে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা গেলো, আমাদের অজান্তেই শুনানিই হয়ে গেলো। ফলে তারা (অনুমোদনহীন মেডিকেল কলেজ) এক তরফা আদেশ পেয়ে যায়।’