১৪ মার্চ, ২০২২ ০৬:৩৭ পিএম

স্বাস্থ্যে বিভিন্ন পদে চিকিৎসকদের চান পেশাজীবী নেতারা 

স্বাস্থ্যে বিভিন্ন পদে চিকিৎসকদের চান পেশাজীবী নেতারা 
ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ। (বাম দিক থেকে)

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অবিলম্বে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ। চিকিৎসা ব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে অনেক জটিলতা দেখা দেবে। স্বাস্থ্য খাতে প্রশাসক হিসেবে চিকিৎসকদের স্থান করে দেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা। 

রোববার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের ২১তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিকিৎসক নেতারা। 

সমাধান না হলে জটিলতা দেখা দেবে  

সভায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান বলেন, ‘চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেকগুলো মৌলিক সমস্যা বিদ্যমান। সেগুলো দ্রুত সমাধান না করলে সামনের দিনগুলোতে অনেক জটিলতা দেখা দেবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক বিষয় ক্যাডার সিস্টেমে করা সম্ভব না। হেলথ সিস্টেম ক্যাডার সিস্টেমে নিলে হবে না। এ থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার সমাধান হবে না।’

চিকিৎসকদের নিয়মিত পদোন্নতি হয় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সোসাইটিগুলোকে বলবো, আপনারা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় কাজ করবেন। চিকিৎসকদের দাবি নিয়ে কথা বলবেন, সামনে তুলে ধরবেন।’

আমলারা পান গানম্যান, নিরাপত্তাহীনতায় চিকিৎসক

সভায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নেই। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য বিদ্যমান। সরকারের আমলারা গানম্যান পাচ্ছেন; অন্যদিকে চিকিৎসকদের শার্টের কলার চেপে ধরা হচ্ছে। রোগীর স্বজনরা লাঞ্ছিত করছেন।’

স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসকদের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আপনাদের অবদান অবিস্মরণীয়। আপনাদের কারণেই আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।’  

তিনি বলেন, ‘আমরা দয়া চাই না, দাক্ষিণ্য চাই না। আমাদের অধিকার দিতে হবে। যেখানে সংবিধানে বলা আছে, ক্যাডার বৈষম্য থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে...। কিন্তু যারা করবে তারা তেলে তৈলাক্ত হয়ে বসে আছেন। সময় থাকতে চিকিৎসকদের সঠিক মূল্যায়ন করুন।’

ছুটি চাওয়ায় চিকিৎসককে শোকজের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একজন আমলা কী করে একজন চিকিৎসক ছুটি চাওয়ায় তাকে শোকজ করেন জানতে চান, আপনি ছুটি চান কেন? শোকজ করবেন কোন শক্তিতে? ছুটি দেবেন না ভালো কথা, কিন্তু শোকজ করা কোন ধরনের আইনের বাস্তবায়ন?’

এ ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘একজন যুগ্মসচিব কোন যোগ্যতায় একজন চিকিৎসককে শোকজ করেছেন, তার বিচার আপনার কাছে চাই। তিনি কোনো রুলস অব বিজনেস জানেন না। তাঁর সেই ক্ষমতায়ই নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জুনিয়র চিকিৎসক কনসালটেন্ট, দেড় বছর পদায়ন হয় না। কেন তাদের পদায়নের জন্য ঘুরতে হবে? এ রকম বৈষম্য থাকবে কেন?’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আপনি (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) আমলাদের প্রতিনিধি নন, আপনি চিকিৎসকদের প্রতিনিধি। আপনি আবারও মন্ত্রী হবেন, আমাদের দিকে তাকান।’

সেবা ও শিক্ষা বিভাগের টানাটানিতে কাজ ব্যাহত

অনুষ্ঠানে স্বাচিপ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ বলেন, ‘চিকিৎসকদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন করতে হবে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জান বাজি রেখে কাজ করেছি। মন্ত্রণালয়ের অনেক নেতিবাচক ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। প্রকৃত পেশাজীবী মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। আমরা শাসক হিসেবে চিকিৎসা সেবায় কাউকে দেখতে চাই না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। সেবা আর শিক্ষা বিভাগের টানাটানিতে অনেক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা অনেক দুর্নীতির অভিযোগ দেখেছি। চিকিৎসকরা জড়িত না। চিকিৎসকরা জানেন, স্বাস্থ্য সেক্টরের কোথায় কি সমস্যা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দেখতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ। 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক লাঞ্ছিত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত