বিএমইউতে চিকিৎসক লাঞ্ছনা: সেই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ দাবিতে কর্মবিরতি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কর্মরত অবস্থায় লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী মো. ইকবাল হোসেনকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। এ দাবিতে রোববার (১৯ মে) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। একই সাথে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এসব চিকিৎসক।
এর আগে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিএমইউ হাসপাতাল প্রশাসন। একই সাথে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে চিকিৎসকদের দাবি, শুধু প্রশাসনিক শাস্তিই নয়, ফৌজদারি ঘটনা হিসেবে ইকবালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
আজ মঙ্গলবার (২০ মে) চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দুদিন ধরে অভিযুক্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইকবাল হোসেনকে আইনেও আওতায় আনার দাবিতে কর্মবিরতিতে রয়েছেন তারা। তবে এ সময়ে সীমিত পরিসরে জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে।
ভুক্তভোগী ফেজ বি রেসিডেন্ট (অর্থোপেডিক্স) ডা. মো. আহসান হাবিব মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ইকবালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। আমাদের দাবি, মামলার মাধ্যমে তাকে বিচারের আওতায় আনা হোক। এছাড়াও আমাদের আরও কিছু দাবি রয়েছে, যা আমরা বিএমইউ ভিসির কাছে স্মারকলিপি আকারে পেশ করেছি।’
দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতি থেকে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক্স বিভাগে ডা. আহসান হাবিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন ইকবাল। চিকিৎসা নিতে এলে নিয়ম অনুযায়ী টিকিট করতে বলায় এই ঘটনা ঘটে। একই দিন ইকবালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে বিএমইউ হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। পরদিন রোববার বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু নোমান মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কর্মচারী মো. ইকবাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ওই দিন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডা. আহসান হাবিব জানান, চিকিৎসা নিতে নিয়ম অনুসরণ করে টিকিট সংগ্রহ করতে বলায় রেগে যায় ইকবাল। তাৎক্ষণিকভাব রোগী এবং তার লোকজন ডা. আহসান হাবিবের ওপর চড়াও হয়। এ সময় তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। একই সঙ্গে হত্যারও হুমকি দেয় তারা। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল ওই চিকিৎসক নার্সদের সহযোগিতায় অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) আশ্রয় গ্রহণ করেন।
ডা. আহসান হাবিবের অভিযোগ, এ সময় কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
চিকিৎসকদের কর্মস্থল নিরাপদ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার যদি দৃশ্যমান কোনো বিচার না হয়, আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে পরবর্তী ঘটনার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’
টিআই/এনএআর/
-
১৪ জুন, ২০২৬
-
০৮ জুন, ২০২৬
-
১৭ মে, ২০২৬