২০ অক্টোবর, ২০২১ ০৭:১৭ পিএম

‘ডিসেম্বরের মধ্যেই টিকাদান লক্ষ্যমাত্রার ৫০ ভাগ সম্পন্ন হবে’

‘ডিসেম্বরের মধ্যেই টিকাদান লক্ষ্যমাত্রার ৫০ ভাগ সম্পন্ন হবে’
ছবি: মজিবুর রহমান

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ভ্যাকসিনের মজুদ রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত ইতোমধ্যেই প্রায় ৬ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দিতে সক্ষমতা অর্জন করেছে, এ বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার অন্তত পঞ্চাশ ভাগ মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হবে।

আজ বুধবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের (ইউএইচওএফপিও) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এই মুহুর্তে নিজে কোন ভ্যাকসিন উৎপাদন না করলেও দেশে এখন পৃথিবীর উৎপাদিত প্রায় সব ধরনের ভ্যাকসিন চলে এসেছে। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক মহলে সম্পর্কের কারনে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে কথা দিয়েছিলেন দেশের সব মানুষকে তিনি ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসবেন। তিনি তার কথা অনুযায়ীই আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরাও প্রধানমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী দিনরাত একাকার করে কাজ করে যাচ্ছি।’

এ সময় স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্যখাত গত দুইবছরে ডেঙ্গু মোকাবিলা করাসহ করোনার দুইটি ঢেউ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। ব্লুমবার্গ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সম্প্রতি জাপানের নিপ্পনের পরিচালিত জরিপে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম স্থান অর্জন করেছে। একটি অতি ঘনবসতি দেশের জন্য এটি ছোটখাটো অর্জন নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার স্বাস্থ্যখাতের প্রশংসা করেছেন। অথচ এক শ্রেণির মানুষ জেনে বা না বুঝেই দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ঢালাওভাবে সমালোচনা করে গেছে। এই সমালোচনা তারা এজন্যই করেছে কারন তারা জানে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে দেশের সব শ্রেণির মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তারা জানে, স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা সব থেকে সহজ। স্বাস্থ্যখাতের মাধ্যমে তারা আসলে সরকারকে বারবার বিব্রত করতে চেয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, প্রতি ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যখাতের সাফল্যের কাছে সমালোচকরা চুপসে গেছে এবং হেরে গেছে। সামনে আবারও এরকম কঠিন সময় আসতে পারে। কাজেই স্বাস্থ্যখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে দেশের ৪৯২ উপজেলার ইউএইচওএফপিও অংশ নেন। তারা তাদের কার্যপরিধি, সীমিত সম্পদের মাধ্যমে আন্তরিক সেবাদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও তৃণমূলে কাজ করতে গিয়ে নিগ্রহের শিকার হওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে, এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীদের নানারকম দাবির কথাগুলি শোনেন ও তা পুরণের আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে করোনা মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ও আন্তরিকতার ভুয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিকন ফার্মাসিকিউটিজের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ও জাতীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করীম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএ মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক