পর্যবেক্ষণ তালিকায় করোনার নতুন ধরন ‘মিউ’
মেডিভয়েস ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় করোনার নতুন ধরন ‘মিউ’ শনাক্ত হয়েছে। মহামারীর এ ধরনটি মানব দেহের অ্যান্টিবডির প্রতিরোধ ভেঙে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় নতুন ধরনটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণের তালিকা ভ্যারিয়েন্টস অব ইন্টারেস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর বা টিকা নিলে শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, মিউ ভ্যারিয়েন্ট তা ভেঙে ফেলতে পারে। গত ৩০ অগাস্ট ডব্লিউএইচও ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ তালিকায় এ ধরনটি যুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার সাপ্তাহিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে কলম্বিয়ায় প্রথমবারের মত ‘মিউ’ ধরনটি শনাক্ত হয়। সে সময় সেখানে কোভিডে আক্রান্তদের ৩৯ শতাংশ নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রাথমিক গবেষণায় বের হয়ে এসেছে যে, টিকা নেওয়ার পর মানবদেহে যে সুরক্ষা তৈরী হয়, তাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এই ধরনটি। তবে এর সংক্রমণ ক্ষমতা ঠিক কতটুকু এবং ভাইরাসটির অন্যান্য ধরনসমূহের তুলনায় এটি কী পরিমাণ প্রাণঘাতী, তা জানার জন্য আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত এই ধরনটিকে চিহ্নিত করেছেন বি.১.৬২১ হিসেবে। তবে জটিলতা এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন গ্রিক বর্ণমালার ক্রম অনুসারে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনগুলোর নামকরণ করছে। সেই হিসেবে কলম্বিয়ায় পাওয়া এ ভ্যারিয়েন্ট নাম রাখা হয়েছে ‘মিউ’।
ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে করোনার মিউ ধরনটি শনাক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের জিন বিন্যাসে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যাতে ধারণা করা যায় যে, কিছু অ্যান্টিবডির প্রতিরোধ সেটা ভেদ করতে পারে। তবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মত তথ্য এখনও আমাদের হাতে নেই।’
এর আগে এ রকম ছয়টি ধরনকে করোনাভাইরাসের প্রধান ও প্রতিনিধিত্বশীল ধরন হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছিলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ধরনগুলো হলো, আলফা, বিটা, গ্যামা, ডেল্টা, কাপ্পা ও ল্যাম্বডা। এবার এই তালিকায় সপ্তম ধরন হিসেবে যুক্ত হলো মিউ।