১০ জানুয়ারী, ২০২১ ১০:০৮ এএম
মেডিকেল শিক্ষার্থী-চিকিৎসকদের পরীক্ষা

সংক্রমিতদের মৌখিক পরীক্ষায় নমনীয় মেডিকেলগুলো

সংক্রমিতদের মৌখিক পরীক্ষায় নমনীয় মেডিকেলগুলো
ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: বৈশ্বিক সংকট করোনা মহামারির এ সময়ে শুরু হতে যাওয়া এমবিবিএস, রেসিডেন্ট ও এফসিপিএস পরীক্ষায় আক্রান্তদের পরীক্ষা থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে কোনো শিক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষা শেষে সংক্রমিত হলে দুই সপ্তাহ পর তার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে আক্রান্ত হলে ভাইভায় সুযোগ দেবে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা না গেলে এক মার্চ থেকে রেসিডেন্সি কোর্সের নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু করাসহ অনেক কিছুতেই বিঘ্ন ঘটবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এ ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাঁদের দাবি, পরীক্ষক-পরীক্ষার্থী সবাই সচেতন হওয়ায় এ ধরনের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না তাদের।

ভাইভায় সংক্রমিতদের বিষয়ে ইতিবাচক মেডিকেলগুলো  

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞা মেডিভয়েসকে বলেন, এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জাতীয় কমিটি কাজ করছে। তারা এখনো চূড়ান্ত করেনি।

এবার অধিক সংখ্যক পরীক্ষার্থীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক কি করা যায়, তা নিয়ে কথা বলবো। যতদূর জানি, করোনা আক্রান্তদের ভাইভায় সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এখনো অসম্পূর্ণ আছে।’

জানতে চাইলে মুগদা মেডিকেলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি যেটুকু শুনলাম, ঢাকা মেডিকেলে যারা পরীক্ষা দিতে এসেছে অনেকে আগে থেকেই করোনা পজিটিভ। তারা পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সংস্পর্শে যাবে, এতে অন্যরাও সংক্রমিত হয়ে যেতে পারে। সবাইকে দৃঢ়ভাবে স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানতে হবে। যারা পজিটিভ আসবে, তাদেরকে তো অগত্যা পরবর্তীতে পরীক্ষা দিতে হবে। আর যারা নেগেটিভ থাকে তারা যেন সংক্রমিত না হয় সেদিকে পূর্ণ মনোযোগী থাকতে হবে। তাদের মধ্য থেকে দুর্ঘটনাবশত কেউ যদি ভাইবার সময় সংক্রমিত হয়ে যায় তাহলে তো একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত দেওয়া গেলে যারা অকৃতকার্য হবে তাকে তো ভাইভায় আনতে হবে না। তাতে সংখ্যাও কমে যাবে। সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। আর যারা পাস করবে তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে দুই সপ্তাহ পর তার পরীক্ষা নেওয়া যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নাই। এটা খুব কঠিন কিছু হবে না। যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর আমাদেরকে তাই ভাবতে হবে। এখানে কঠোর হওয়ার কিছু নাই।’ 

অধ্যাপক আহমেদুল কবীর বলেন, ‘আমরা এমন একটি সময় অতিক্রম করছি—এ দুঃসময়ে যদি একটু নমনীয় হই, পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধির ব্যত্যয় না ঘটাই; তাতে তো পরীক্ষায় কোনো সমস্যা হবে না।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নিয়মিত প্রফ পরীক্ষা নিতে ১০/১২ দিন সময় লাগবে। ৪/৫ দিন ধরে ভাইভা পরীক্ষা হবে। এখানে কেউ আক্রান্ত হলে আমরা চেষ্টা করবো তার ভাইভাটা পরে নেওয়ার। তবে সবই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। এটা অফিসিয়াল কোনো সিদ্ধান্ত না, আনঅফিসিয়ালি মানবিক দিক বিবেচনায় আমরা এটা করবো। এখানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটাই মুখ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরনো কারিকুলামে যারা সাপ্লিমেন্ট ছিল, তাদেরকেও এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যদিও সংখ্যাটা খুবই কম ছিল। আর রিটেনের আগে যারা পজিটিভ ছিল তারা নেগেটিভ হয়েছিল, ফলে পরীক্ষার সুযোগ দিতে পেরেছিলাম। এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে না প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় করা হয়েছে।’

করোনার সংক্রমণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে ঢাবি মেডিসিন অনুষদের ডিন বলেন, ‘আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের কার্যক্রমটা চালিয়ে যেতে পারে। এ লক্ষ্যেই আমাদের এ চেষ্টা। এ ক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া হলো, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তারা যেন নিজে থেকে সুরক্ষিত থাকে। শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে আন্তরিক বা সচেষ্ট না হলে আমরা হাজার চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারবো না।’ 

সংক্রমিত হলে ভাইভায় সুযোগ পাবেন না রেসিডেন্টরা

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আপাতত আমাদের এ রকম কোনো ভাবনা নেই। এটা প্রলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই, যত দ্রুত পরীক্ষা শেষ করা যায় ততই ভালো। আমাদের অনেক কাজ রয়েছে। এই পরীক্ষা শেষ করতে করতে ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। মার্চের ১ তারিখ থেকে রেসিডেন্সি কোর্সের নতুন ব্যাচের ক্লাস শুরু হবে। প্রতি বছর তো ১০ ভাগ রিটেনের পর ভাইভায় অংশ নেয় না। এভাবে ফলআউট হয়ে যায়। সুতরাং ভবিষ্যতে কি হবে না হবে, তা দেখতে হবে। যদি কোনো চিকিৎসক ড্রপ করে, অসুস্থ হয় বা করোনায় আক্রান্ত হয়—এটা তো দুর্ঘটনা। কেউ পরীক্ষা দিতে এসেও অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাকে কি আবার সুযোগ দেওয়া হয়? সুতরাং আমাদের এটা করার সুযোগ নাই। লিখিত কিংবা ভাইভা—কেউ কোনো কিছু মিস করলে এর অর্থ দাঁড়াবে সে ট্রেন মিস করলো। সুতরাং এ নিয়ে আমাদের বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নাই।’ 

সময়ের আলোকে সিদ্ধান্ত নেবে বিসিপিএস

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষায় কৃতকার্য-অকৃতকার্য হওয়ার ওপর কোনো চিকিৎসকের মৌখিক পরীক্ষা নির্ভরশীল। প্রথম লিখিত, এর পর ভাইভা ওরাল, তারপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়। কারও যদি জ্বর হয়, তাহলে তো কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই। এমন কি কারও রেজাল্টও খারাপ হতে পারে। এমন হলে পরে বিবেচনা করা হবে। এখন এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নাই। এটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। ইতিমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ 

এ ধরনের কোনো অসুবিধায় পড়তে হবে না আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত যেহেতু আক্রান্তের হার কম, এ ছাড়া যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তারা সবাই চিকিৎসক এবং সবাই পরিণত চিকিৎসক। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে স্বাভাবিকভাবেই পরীক্ষার্থী অনেক কমে যাবে। সুতরাং কোনো সমস্যা হবে না। চিকিৎসক হিসেবে আমরা প্রতিনিয়িত রোগী দেখছি, করোনা রোগীও দেখছি।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত