৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৬:০৫ পিএম
ফিরে দেখা ২০২০

অরক্ষিত কর্মস্থল, একের পর এক হামলায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক সমাজ

অরক্ষিত কর্মস্থল, একের পর এক হামলায় উদ্বিগ্ন চিকিৎসক সমাজ
হাসপাতালে হামলার খণ্ডচিত্র

সাখাওয়াত হোসাইন: দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না থাকায় ঠুনকো কারণে কর্মস্থলে হামলার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসকরা। এসব হামলায় অরক্ষিত তাদের কর্মস্থল। প্রতিটি ঘটনা শেষে সাময়িক কিছু কর্মসূচি ও প্রতিবাদের পর স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা নিরব হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত বিরতিতে ঘটেই চলেছে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা। রোগীর স্বজনদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক এবং লাঞ্ছিত হয়েছেন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক।

এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আরেকটি বছর পার করেছেন দেশের নিবেদিতপ্রাণ এসব স্বাস্থ্যকর্মী। এর কোনো বিচার না হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে দেশের অতিপ্রয়োজনীয় এ খাত রক্ষায় অনতিবিলম্বে চিকিৎসক-রোগী সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

খুলনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় চিকিৎসক নিহত 

খুলনায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আব্দুর রকীব খানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্বজনেরা। গত ১৬ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

জানা যায়, গত ১৪ জুন সকালে গল্লামারীর মুহাম্মদ নগর এলাকার এক অন্তঃস্বত্তা নারীকে ডা. আব্দুর রকীব খানের মালিকানাধীন নগরীর গল্লামারী রাইসা ক্লিনিকে ভর্তি করেন স্বজনেরা। ওই নারীর কিছু জটিলতা থাকায় ওইদিন বিকেলে তাঁর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হয়। মা ও নবজাতক দুজনই ভালো ছিলেন। কিন্তু রাতে মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। 

এর পর ১৫ জুন সকালে রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। দুপুরের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই নারী মারা যান। 

পরে রাত নয়টার দিকে ওই নারীর স্বজনেরা লাশ নিয়ে ক্লিনিকের সামনে এসে রকিব খানকে মারধর করেন। এসময় ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর ১৬ জুন সন্ধ্যায় খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. আব্দুর রকিব।

জাতীয় মানসিক ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম শিপন নিহত ঘটনায় দায়ের করা হত্যাকাণ্ড মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনকে গত ১৭ নভেম্বর সকালে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার হারুন বলেন, আনিসুল করিম চিকিৎসা নিতে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে) গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ডা. মামুনের পরামর্শে তাকে আদাবরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এতে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ডা. মামুনের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

জামালপুরে চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলা

জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের রোগী মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ ১৫ জন চিকিৎসককে আহত করে। ২৫ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরে ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া গুরুতর আহত এক রোগীকে জুম্মার নামাজের সময় ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবার পর চিকিৎসকরা রোগীকে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। ওয়ার্ডে নিতে নিতেই মারা যান রোগী। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসকদের উপর হামলা এবং হাসপাতালের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে।

হামলায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও), স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) জামালপুর জেলার আহ্বায়ক ডা. লুৎফর রহমান, ডা. চিরঞ্জীব, ইন্টার্নি চিকিৎসক হাবিবুল্লাহ আহত হন।

এ সময় পুলিশ সদস্য উপস্থিত থেকেও তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তারা বলেন, ‘পুলিশ উল্টো অকথ্য ভাষায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গালাগাল করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাদের গায়ে হাত তোলে। এতে বাধা দিলে সিনিয়র চিকিৎসকদের গায়েও হাত তোলা হয়। পরে সহিংস স্বজনদের না থামিয়ে চিকিৎসকদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

চট্টগ্রাম বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদককে হত্যার হুমকি

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীরকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্ত। 

১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামে তাঁর মেহেদীবাগের বাসার সামনে গিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে করোনা রোগীর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই চিকিৎসকদের নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ এবং চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন ডা. ফয়সাল। এজন্য সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা জনৈক ব্যক্তি ডা. ফয়সলের ভূমিকা ও পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।

কুমিল্লায় ইন্টার্ন চিকিৎসককে ছুরিকাঘাত

গত ১১ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রবি মারজুক। সন্ত্রাসীদের ছুরির আঘাতে ডা. রবি মারজুকের ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর ফুসফুসে ইন্টারনাল ব্লিডিং হয়। এতে তাঁর স্বাভাবিকভ শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটে।

ডা. রবি ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে রয়েল পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা থেকে কুমিল্লার টমচমব্রিজ এলাকায় নামেন। সেখান থেকে কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পরই মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। এ সময় অস্ত্রের মুখে তাকে সেখানে অপেক্ষমান অটোবাইকে উঠতে বাধ্য করে তারা। এরপর রবি মারজুকের বুকে-পিঠে উপর্যুপুরি করে অটো-বাইক থেকে ধাক্কা দিয়ে তাকে নিচে ফেলে দেয় তারা। পরে পালিয়ে যাবার সময় ডা. মারজুকের পায়ের ওপর অটো-বাইক উঠিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা।

রাজবাড়িতে চিকিৎসককে লাঞ্ছনা

রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায় ডা. সুপ্রভ আহমদ নামের এক চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহ্সান উল্লাহর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ দুপুর দুইটায় হাসপাতালের ডিউটি শেষে বাসায় ফিরছিলেন ৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া ওই চিকিৎসক। পথে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহ্সান উল্লাহ ভ্যান আটকিয়ে পথ রোধ করে। তখন তিনি ডাক্তার পরিচয় দেয়ার পরেও ওসি তার উদ্দেশ্যে অশালীন কথা বলেন এবং এক পর্যায়ে তার পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তিনি পুনরায় তার পরিচয় দিলে ওসি তাকে কোন কথা না বলে বাসায় ফিরে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে তিনি ইউএইচএফপিও, ইউএনও এবং সিভিল সার্জনকে জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত ওসি এ অভিযোগ অস্বীকার করছেন। 

চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে মেডিভয়েসকে আহসান উল্লাহ বলেন, অভিযোগকারী চিকিৎসকের সাথে ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে। বাগবিতণ্ডা হলেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কথা সত্য নয়। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মিটিয়ে নেয়া হয়েছে।

শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের উপর হামলা

গত ৫ মে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের উপর হামলা ও হাসপাতালের আইসিইউ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রোগীর ছাড়পত্রকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালটিতে হামলা করে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সদ্য সিজার হওয়া এক সন্দেহভাজন করোনা রোগীকে গুরুতর অবস্থায় শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা মানবিক দিক ও অবস্থা বিবেচনা করে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখেন। 

ভর্তির পর রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই তাকে সন্ধ্যার আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়িয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীর স্বজনদের নিয়মানুযায়ী হাসপাতাল ছাড়তে বলে। কিন্তু রোগীর স্বজনরা দ্রুত ছাড়পত্র দেয়ার জন্য বললে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিল পরিশোধ করতে বলে। 

এ সময় ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি চিকিৎসক ও নার্সের ওপর হামলা করে। এতে এক চিকিৎসক ও এক নার্স আহত হয়।

পাঁচ চিকিৎসককে হত্যার হুমকি

গত সাত নভেম্বর চাঁদপুর জেলার হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচ চিকিৎসককে ফোন দিয়ে সর্বহারা পার্টির সেকেন্ড ইন কমান্ড পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি।

হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ইউএইচএফপিও) ডা. মামুন রায়হানকে ফোন করে অর্থ দাবি করে তাঁরা। টাকা দিতে না পারলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া।

চিকিৎসক-রোগী সুরক্ষা আইন চায় পেশাজীবী সংগঠনগুলো  

চিকিৎসক নির্যাতন বন্ধে করণীয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরুপম দাশ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এর জন্য অনেক অংশে দায়ী। জবাবদিহিতার জন্য বিএমডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরো উদ্যাগী হতে হবে। চিকিৎসকরা এখন প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে আছেন, এ অবস্থায় চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। যতগুলো চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এখন পর্যন্ত একটিরও বিচার হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে।’

চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের বিষেয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুগোপযোগী একটি চিকিৎসক ও রোগী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করা অতিব জরুরি। আমরা চাই তা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছি। ইতিমধ্যে এ আইনের খসড়া মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে এ আইন চূড়ান্ত করা হবে। আমরা আশা করি, আইনটি বাস্তবায়িত হলে কোনো রোগীকে দেশের বাইরে যেতে হবে না, দেশের স্বাস্থ্যসেবা গণমুখী হবে।’

এ সময় দেশের চিকিৎসকরা অনেক দক্ষ ও যোগ্য বলেও জানান ডা. নিরুপম দাশ।

চিকিৎসক নিগ্রহ বন্ধে আইন হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি, এ ব্যাপারে আপনারা কি ভাবছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে  চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিস’র  (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলন করে চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের ওপর আমাদের একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছি, এটা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গেছি। অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের কাছে জমা দিয়েছি। সেখানে অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। আমরা যে খসড়া দিয়েছি, বর্তমান বাস্তবতায় এর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে চিকিৎসকদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে ঘটনাগুলো ঘটছে, পরে নানামুখী চাপসহ বিভিন্ন কারণে মীমাংসায় যেতে হচ্ছে। বিচারের আশ্বাস থাকে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন দেখি না। কোথাও কোথাও মামলা হয়, কোথাও আবার মামলা নেওয়া হয় না। এর সুনির্দিষ্ট সমাধানের জন্য চিকিৎসক সুরক্ষা আইনের কোনো বিকল্প নাই।’

নির্যাতন বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেভাবে ভূমিকা রাখা উচিত, তা হচ্ছে না। শুধুমাত্র পেশার বাইরেও অনেক কিছু চলে। এগুলো সাধারণ চিকিৎসকদেরকে আহত করে। জামালপুরের ঘটনায় ডক্টরস ফাউন্ডেশনের পক্ষ কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, অনেকেই অফিসে যাননি। তবে চিকিৎসক নির্যাতনের ঘটনায় অনেক সময় আমরা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। গত ২৫ ডিসেম্বরের ঘটনায় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ গত বিশ-পঁচিশ বছরে দেখলাম না কোনো ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা চাই।’

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : চিকিৎসক লাঞ্ছিত
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি