০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:৪৮ পিএম
প্রাপ্তির ঝুলিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

গানের পাশাপাশি রোগীর সুস্থতায় তৃপ্তি খুঁজতে চান ঐশী

গানের পাশাপাশি রোগীর সুস্থতায় তৃপ্তি খুঁজতে চান ঐশী
ফাতিমা-তুয্-যাহ্‌রা ঐশী। ছবি: সংগৃহীত

মো. মনির উদ্দিন: ২০১৯ সালের শ্রেষ্ঠ গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন রাজধানীর শমরিতা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী কণ্ঠশিল্পী ফাতিমা-তুয্-যাহ্‌রা ঐশী। প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ায় খুব উচ্ছ্বসিত তিনি।

মাসুদ পথিকের সরকারি অনুদানের ছবি 'মায়া: দ্য লস্ট মাদার' ছবিতে 'মায়ারে মায়ারে তুই মাঠের সাদা বক' শিরোনামের গানের জন্য এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন ঐশী। পরিচালকের নিজের লেখা ওই গানের সুরারোপ ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ইমন চৌধুরী।

খুব অল্প সময়ে শ্রোতাদের মন জয় করে নেওয়া তরুণ প্রজন্মের এ কণ্ঠশিল্পী মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ ইতিমধ্যে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার তার প্রাপ্তির ঝুলিতে যোগ হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

অনুপ্রেরণার সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব

আকাশচুম্বি সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফাতিমা-তুয্-যাহ্‌রা ঐশী আজ শনিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মেডিকেল বিষয়ক পত্রিকা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর! প্রথমেই কৃতজ্ঞতা আমার পরিবারের মানুষদের প্রতি যারা সর্বক্ষণিক আমাকে স্নেহের ছত্রছায়ায় রেখে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি পুরস্কার একজন শিল্পীর জন্যে যেমন অনুপ্রেরণার, ঠিক তেমনি এটি অনেক ভারীও। দায়িত্বের ভারটা অনেক অনেক বেড়ে যায়। আর সেটা যদি রাষ্ট্রীয় সম্মান হয়, তাহলে দায়িত্বের জায়গাটা আরো বড় হয়ে যায়।’

সঠিক বিচারে মুগ্ধ ঐশী

এ পুরস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নোয়াখালীর মেয়ে ঐশী বলেন, ‘জুরিবোর্ডকে সালাম ও শ্রদ্ধা জানাই। আপনারা আমাকে যোগ্য মনে করেছেন বলেই আমি এই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। সঠিক এবং সৎ বিচার না হলে হয়তো এই পাওনা হতো না। আমাকে যোগ্য বিবেচনা করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে কৃতজ্ঞতা।’

সিনেমা টিমকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন

চলচ্চিত্রের গান গাওয়া সকল শিল্পীর জন্য স্বপ্নময় জানিয়ে ঐশী বলেন, ‘আমি সব সময় মন দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে কাজ করতে চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই গানের লেখক মাসুদ পথিক ভাইকে,  চমৎকার গানটি লিখে আমাকে গাইবার সুযোগ দেওয়ার জন্য। এত সুন্দর সুর-সংগীত করে আমার গায়কীর মাধ্যমে গানের অনুভুতিটুকু বের করে আনার জন্য ইমন চৌধুরী ভাইয়াকে ধন্যবাদ। পুরো সিনেমার টিমকে ধন্যবাদ জানাই। মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমার পরিচালক মাসুদ পথিক ভাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।

শ্রোতাদের প্রতি ভালোবাসা

ঐশী বলেন, ‘যারা গানটি প্রকাশের পর থেকে শুনেছেন এবং গানটাকে আপন করে নিয়েছেন। সেই সকল শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইলো! আমার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা আমাকে তৈরি হতে পাশে থাকার জন্য। ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সকলকে কৃতজ্ঞতা আমার পথ চলার শুরু থেকে আপনাদেরকে পাশে পেয়েছি। সবশেষ তাদেরকে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা- যারা আমার পথ চলার শুরু থেকে আমাকে আগলে রেখে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সবাই দোয়া করবেন আমার জন্য। আমি যেন এই ভার বহন করে সামনে এগিয়ে যেতে পারি।

সঙ্গীতে হাতে খড়ি

ফাতিমা-তুয্-যাহ্‌রা ঐশী রংপুর শিশু একাডেমি থেকে সঙ্গীত শিখেছেন। ২০০২ সালে তিনি এনটিভি শো শাপলা কুড়ি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হন। পরবর্তীতে তিনি ইমরান মাহমুদুলের রচনায় প্রথম অ্যালবাম ঐশী এক্সপ্রেস প্রকাশ করেছিলেন, যা সফল হিট হয়ে উঠে। এর পর আরও তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ভারতীয় বেতারের লেবেল শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং সবচেয়ে কম বয়সী বাংলাদেশি গায়ক হিসাবে পরিচিত হয়েছিলেন।

ঐশীর বেড়ে ওঠা

নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৫ সালে এইচএসসি পাস করেন ফাতিমা-তুয্-যাহ্‌রা ঐশী। কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এইচএসসি পাস করার পর ভর্তি হন রাজধানীর শমরিতা মেডিকেল কলেজে। বর্তমানে মেডিকেল শিক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষা ফাইনাল প্রফের অপেক্ষায় রয়েছেন।  

মেডিকেলের চ্যালেঞ্জিং পড়াশোনা পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গানের জগতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন তিনি। 

এ দুঃসাধ্য সাধন করার রহস্য জানতে চাইলে ঐশী বলেন, ‘গান নিয়ে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততম সময়ে মেডিকেলে ভর্তি হই। ওই সময় আমার জ্যেষ্ঠরা বলতেন—দুটি বিষয় সমান তালে এগিয়ে নেওয়া কষ্টসাধ্য। প্রথম দিকে আমি নিজেও ভয় পেতাম। তবে ছোটবেলা থেকে আমার ও পরিবারের সবার প্রতিজ্ঞা ছিল, চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। কেউ নেতিবাচক কিছু বললে আমি বলতাম, পারবো। আল্লাহর রহমতে দেখতে দেখতে ফাইনাল ইয়ারে চলে এসেছি। এ ক্ষেত্রে আমার পরিবারের পূর্ণ সহযোগিতা ছিল। আমার কাজের পুরোটা আমার বাবা ও সাজগোজটা আম্মু দেখভাল করেন। আমি শুধু পড়াশোনাটা চালিয়ে যাই। অনুষ্ঠানের সময় শুধু পারফর্ম করে আসি।’

অনিবার্যভাবে মেডিকেল শিক্ষায় প্রচুর সময় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে আমাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কখনো এমন হয়েছে, আমার পরীক্ষা সামনে আবার অন্যদিকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট যা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। তখন খুব কষ্ট করে গান এবং পড়াশোনা দুটিই চালিয়েছি। কোনো অভিযোগ যেন না আসে যে, গান-বাজনা করতে গিয়ে এদিকটা (পড়াশোনা) দুর্বল হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সব সময় সচেতন থাকতাম। শিক্ষকবৃন্দও আমাকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন, যেন গানটা করেও পড়াশোনায় তাঁদের খুশি রাখতে পারি।’ 

ডাক্তারি-গানে সমান আগ্রহ

গান ও চিকিৎসা পেশা দুটোতেই সমান আগ্রহের কথা জানিয়ে ঐশী বলেন, ‘আমার চার বছর বয়স থেকে গান শুরু হয়। তার পর থেকেই গানের সঙ্গে বসবাস। অন্যদিকে বাবা-মার পাশাপাশি আমার শৈশব থেকে ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হওয়ার। বিশেষ করে বোঝ ও বোধের সময় থেকে এ ব্যাপারে প্রতিজ্ঞ আমি। তখনও গানে একটু একটু করে এগিয়ে চলেছি আমি। মানুষ স্বপ্ন দেখে, কিন্তু অনেক সময় তা পূরণ হয় না। এদিক থেকে আমি সৌভাগ্যবান যে আল্লাহ আমাকে স্বপ্বের পথে হাঁটার সুযোগ করে দিয়েছেন। দুটি স্বপ্নের পথে চলতে আমি সমান তালে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সামনের দিনগুলোতেও এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

রোগীর সুস্থতায় তৃপ্তি খুঁজতে চান 

ঐশী বলেন, ‘পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে একজন রোগী আমার কাছে আসবেন তার সমস্যা বলতে, এটা অনেক বড় একটি বিষয়। সে অবস্থার জন্য নিজেকে তৈরি করতে চেষ্টা করছি। রোগীর স্বাস্থ্য সেবার জায়গাটা আমার একটি দুর্বলতা রয়েছে। এটা আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। আমি যেন তাদের পরিপূর্ণভাবে সেবা দিতে পারি। অনেকেই আমাকে বলেছেন, ক্লিনিশিয়ান হবো, নাকি বেসিক সাবজেক্টে যাবো, আমি বলেছি আমার স্বপ্নটাই ক্লিনিক্যাল। আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো, বেসিক সাবজেক্টে গেলে এটা হয় না। রোগীকে সেবা দিয়ে সুস্থ করার মাধ্যমেই তৃপ্তি খুঁজতে চাই। চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে সারাটা জীবন উৎসর্গ করে দেন।

মেডিভয়েস সম্পর্কে মূল্যায়ন

মেডিকেল অঙ্গনের পত্রিকা হিসেবে মেডিভয়েসকে নিয়ে গর্ব করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি মিডিয়ার একটি অংশ গান নিয়ে কাজ করছি। সেই অবস্থান থেকে যখন আমি জানতে পারি, মেডিভয়েস নামে একটি পত্রিকা আছে, যেটি পরিপূর্ণভাবে মেডিকেল অঙ্গন নিয়ে কাজ করে—তখন আমি দারুণভাবে গর্ববোধ করি। এখানে আমাদের মেডিকেলের মানুষের খবরাখবর সব সময় ছাপা হয়, যা মেডিকেলের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। গোটা স্বাস্থ্যখাতের মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকবার এ পত্রিকার অংশ হতে পেরেছি, আমার একজন বন্ধু আছে এর সঙ্গে। সব মিলিয়ে এ নিয়ে আমি মুগ্ধ যে আমাদের একটি গণমাধ্যম আছে।’ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : মেডিকেল শিক্ষার্থী
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি