ছয় দফা দাবিতে শহীদ মিনারে চিকিৎসকদের মানববন্ধন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকরা।
আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক ও বিভিন্ন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহন করে।
এসময় বক্তারা বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবো।’
বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের জন্য বিসিএসে আবেদনের বয়সসীমা ছিল ৩২ বছর। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যদি বয়সসীমা দুই বছর বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একইভাবে দুই বছর বৃদ্ধি করাও যৌক্তিক।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পান। সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এই ভাতা দিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একইভাবে এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী, এমএস ও এমডি রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাতা পান, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত। তাই পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী, এমএস ও এমডি রেসিডেন্টদের নবম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দাবি জানিয়ে আসছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা একযোগে কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবো।’
চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়ন। এ ছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন-২০২৫-কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।
এমআর/