১১ অগাস্ট, ২০২৬ ০৫:০২ পিএম

কুড়িগ্রামে হাসপাতালে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ

কুড়িগ্রামে হাসপাতালে রাতের আঁধারে সরকারি ওষুধ পোড়ানোর অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর রাতের আঁধারে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ৫০ শয্যার ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে ওষুধ পোড়ানোর সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে আপত্তি জানান। পরে ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ পান না। বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার আশায় হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি অংশকে শেষ পর্যন্ত বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। অথচ হাসপাতালের গুদামে রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে হাসপাতাল চত্বরে ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব আল আমিনসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। তারা বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান। এ সময় সেখানে হইচই শুরু হয়।

আল আমিনের ভাষ্য, রাতের বেলায় তিন বস্তা সরকারি ওষুধ পোড়ানো হচ্ছে এমন খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে তিন বস্তা ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান। তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার করার অংশ হিসেবে পুরোনো কাগজপত্র সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেগুলো পোড়ানোর সময় কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। তার দাবি, এসব ওষুধ করোনাকালীন সময়ের।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান ঘটনাস্থলে যান। তিনি সেখানে থাকা ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পরিদর্শন করেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেন।

ইউএনও বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, সরকারি ওষুধ এভাবে পুড়িয়ে ফেলার কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনএইচ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ

রেজ্যুলেশনের অংশবিশেষে বিভ্রান্তি হয়ে আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রী

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ

রেজ্যুলেশনের অংশবিশেষে বিভ্রান্তি হয়ে আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রী

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক