৩০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩২ এএম
সংসদে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী 

পোশাকশিল্পের পর ওষুধের কাঁচামাল হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার নতুন উৎস

পোশাকশিল্পের পর ওষুধের কাঁচামাল হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার নতুন উৎস
সংসদে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২০২৯ সালে এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের ওষুধশিল্প একদিকে যেমন নতুন বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ পাবে, অন্যদিকে তেমনি তীব্র আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখিও হবে। তাই এখনই ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। 

সম্প্রতি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জাতীয় সংসদে এসব কথা বলেন। 

বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিষয়ে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প ও সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) খাতের উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর শুল্ক রেয়াত দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে ২০২৯ সালে এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি। আমাদের ওষুধ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু ওষুধ প্রশাসনের পরীক্ষাগারের গুণগত সক্ষমতা এখনও আন্তর্জাতিক মানের পরিপক্বতা স্তর–৩ (এমএল-৩)-এ উন্নীত হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক দরপত্রে আমাদের অনেক ওষুধ কোম্পানি অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না, যদিও তারা দ্বিপাক্ষিক দরপত্রে সফলভাবে অংশ নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে এবং বিদেশি ওষুধ বাংলাদেশের বাজারে সহজে প্রবেশ করবে। তাই এখনই দেশীয় ওষুধের নিবন্ধন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে দেশের মানুষ ভবিষ্যতেও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ওষুধ পেতে পারে।

‘বর্তমানে চীন ও ভারত বিশ্বে সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। বাংলাদেশও এই খাতে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এজন্য এখন থেকেই উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে এমন সক্রিয় ওষুধ উপাদান উৎপাদন করা যায়, যা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় বয়ে আনবে। আজ তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, তেমনি সক্রিয় ওষুধ উপাদান ও কাঁচামাল রপ্তানির মাধ্যমেও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব—বলেন তিনি। 

‘এতে শুধু নতুন বাজারই উন্মুক্ত নয়, বরং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ডায়ালাইসিস রোগীদের ব্যবহৃত কিছু উপকরণের ওপর কর কমিয়েছেন, যা প্রশংসনীয়। একইভাবে হার্টের ভাল্ব, অক্সিজেনেটর-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ, বেতার কম্পাঙ্কভিত্তিক দহন তন্তু (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার) এবং প্রান্তীয় রক্তনালির স্টেন্টের ওপরও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি বা হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাই।’

‘সড়ক দুর্ঘটনাজনিত স্নায়ু ও রক্তনালির আঘাত এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা-উপকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। তাই এসব পণ্যের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি বা হ্রাস করা হলে উন্নত চিকিৎসা আরও সাশ্রয়ী হবে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ সহজ হবে’—বলেন তিনি।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ

রেজ্যুলেশনের অংশবিশেষে বিভ্রান্তি হয়ে আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রী

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ

রেজ্যুলেশনের অংশবিশেষে বিভ্রান্তি হয়ে আন্দোলন: শিক্ষামন্ত্রী

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত