০৪ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৯ পিএম

গোপালগঞ্জ মেডিকেলে আবাসন সংকট চরমে, অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

গোপালগঞ্জ মেডিকেলে আবাসন সংকট চরমে, অনির্দিষ্টকালের জন্য শাটডাউন ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
ছবি: সংগৃহীত ও সম্পাদিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আবাসন ব্যবস্থার চরম সংকট, অব্যবস্থাপনা, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশের ঘাটতিসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছেন গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কাছে দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসলেও মেলেনি সাড়া। অবশেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘একাডেমিক শাটডাউন’ ঘোষণা করে বাড়ি চলে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গার্লস হোস্টেলের ধারণক্ষমতা ২২০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। ফলে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত ছাত্রীদের গণরুমে অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। একটি কক্ষে ২২–২৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বেশিরভাগ কক্ষে নষ্ট বৈদ্যুতিক ফ্যান। ওয়াশরুমেও নোংরা পরিবেশ।

আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ৫১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার পরে দুই দফায় আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। প্রথম দফায় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে  ৬৫ করা এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২৩ সালে ১২৫ জনে করা হয়েছিল। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে ৬তলা বিশিষ্ট দুটি শিক্ষার্থী হোস্টেল নির্মাণ করা হয়। এর একটি ছাত্র, অপরটি ছাত্রীদের জন্য। একই ভাবে ৬ তলাবিশিষ্ট দুটি ইন্টার্ন হোস্টেলও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

গোপালগঞ্জ মেডিকেলের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ খান মেডিভয়েসকে জানান, গার্লস হোস্টেলের ধারণক্ষমতা ২২০ জন হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। ফলে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত ছাত্রীদের গণরুমে মানবেতর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। একটি কক্ষে ২২–২৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত ফ্যান নেই, অধিকাংশ কক্ষের ফ্যানও নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বয়েজ ও গার্লস উভয় হোস্টেলেই নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহার-অনুপযোগী, এমনকি কিছু জায়গায় পাইপ থেকে মলমূত্র চুইয়ে পড়ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে জানান, আমাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একাধিকবার কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে হোস্টেল ত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। দ্রুত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. গোলাম মোর্শেদ মেডিভয়েসকে বলেন, শিক্ষার্থীদের এটি কোনো আন্দোলন নয়, চলমান সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তারা হঠাৎ করেই অধিকাংশ হোস্টেল ত্যাগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যোগাযোগ করছে।

তিনি বলেন, হোস্টেলের কিছু ওয়াশরুমে দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের সমস্যা রয়েছে, যা সমাধানে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নষ্ট ফ্যানগুলোও দ্রুত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে অধিকাংশ সমস্যা সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

আবাসন সংকট প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, সারাদেশের অনেক মেডিকেল কলেজেই ছাত্রীদের সংখ্যা আসনসংখ্যার তুলনায় বেশি। এ সংকট মোকাবিলায় নতুন হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ভবন সংস্কারের বিষয়েও কাজ চলছে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে।

এর আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে সমস্যা সমাধানে অপারগ হওয়ায় ক্লাস বর্জনের প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বলেন, ‘গত ৩০জুন ২০২৬ এ একাডেমিকে প্রিন্সিপাল ও হল সুপার এবং ছাত্রদের সম্মিলিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্যার আশ্বাস দেন যে এক দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান এবং এবং অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। আশ্বাস দেয়ার পরেও দুই হোস্টেলেরই সমস্যা সমাধানে কলেজ কতৃপক্ষ অপারগ হওয়ায় আগামী সপ্তাহে ক্লাস ও ওয়ার্ড পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।’

স্বারকলিপিতে আরও বলা হয়েছিলো, ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুই হোস্টেলের যাবতীয় সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। সব সমস্যার সমাধান আগামী সপ্তাহের মধ্যে না হলে ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে একাডেমিক সেকশন ব্লক করা হবে এবং ক্লাস ও ওয়ার্ড এর বয়কট এর কার্যক্রম ও চলমান থাকবে।’

এমআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত