থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি: বিএমইউ ভিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও পরিবারভিত্তিক জেনেটিক কাউন্সেলিং প্রয়োজন। জিনগত এই রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো স্ক্রিনিং এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এ ব্লক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।
সেমিনারে থ্যালাসেমিয়া রোগের সচেতনতা, প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা এবং গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বিএমইউ ভিসি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে বিয়ের পূর্বে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং গবেষণাভিত্তিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএমইউ থ্যালাসেমিয়া মোকাবিলায় গবেষণা, বিশেষায়িত চিকিৎসা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভিসি (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।
তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থ্যালাসেমিয়া বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। বিএমইউর পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি অ্যান্ড অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল করিম ‘বিয়ন্ড দ্য ব্যাগ: রিডিফাইনিং থ্যালাসেমিয়া কেয়ার উইথ টার্গেটেড ড্রাগ থেরাপি’ বিষয়ে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরেন।
‘প্রেভেলেন্স অ্যান্ড প্রিভেনশন অব থ্যালাসেমিয়া’ বিষয়ে আলোচনা করেন হেমাটোলজি বিভাগের ডা. মাহবুবা শারমিন। ‘ট্রান্সফিউশন মেডিসিন: দ্য লাইট অব হোপ টু থ্যালাসেমিয়া’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের ডা. নাহিদ সুলতানা।
বিএমইউর সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির উদ্যেগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেছা এবং সঞ্চালনা করেন মেডিসিন বিভাগের ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ (মামুন)। এ সময় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/