১৪ মে, ২০২৬ ১১:২২ এএম

৩৮তম সরকারি মেডিকেল হিসেবে অনুমোদন পেল ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ

৩৮তম সরকারি মেডিকেল হিসেবে অনুমোদন পেল ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ
প্রতীকী ছবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের আওতায় অনুমোদন পেয়েছে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ। এ নিয়ে সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৮। বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘এতদ্বারা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের আওতায় ঠাকুরগাঁও জেলায় 'ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ' প্রতিষ্ঠার সরকারি মজুরি জ্ঞাপন করা হলো।’

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

আদেশের অনুলিপি অবগতি ও কার্যার্থে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, চিকিৎসা অনুষদের ডিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা), ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ/ডেন্টাল ইউনিটের অধ্যক্ষ, ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দেশে মেডিকেল কলেজ

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৩৭টি সরকারি ও ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে।

অন্য দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ছয়টি মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধীনে বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুর একটি করে আর সশস্ত্র বাহিনী চিকিৎসা শাখার (ডিজিএমএস) মাধ্যমে ঢাকায় পরিচালিত হয় সশস্ত্র বাহিনী মেডিকেল কলেজ (এএফএমসি)।

সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলের আসন

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সরকারি মেডিকেলে পাঁচ হাজার ৩৮০ জন এবং বেসরকারিতে ছয় হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পেতেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে বিন্যাসের পর সরকারিতে পাঁচ হাজার ১০০ এবং বেসরকারি মেডিকেলের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় হাজার একটি।

আর সেনাবাহিনীর ছয়টির মধ্যে বগুড়া, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর ও রংপুরে পরিচালিত মেডিকেলে ৫০টি করে আড়াইশ’ এবং এএফএমসিতে ১২৫টি আসন রয়েছে। আর নতুন করে চট্টগ্রামে চালু হওয়া নৌবাহিনীর মেডিকেলে ৫০টি আসন রয়েছে।

সেই হিসাবে সরকারি, বেসরকারি, সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে আসন সংখ্যা হলো ১১ হাজার ৫২৬টি।

সংখ্যা নয়, বিবেচ্য গুণগত শিক্ষা

এদিকে সংখ্যাগত নয়, মেডিকেল শিক্ষায় গুণগত দিক বিবেচ্য বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, দেশে গত কয়েক দশকে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে অনেক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুঃখের বিষয় সেগুলোর অধিকাংশই মুনাফাভিত্তিক, যাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো—এই মেডিকেল কলেজগুলোর মাধ্যমে টাকা রোজগার করা।

জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (সিডিসি) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটা কোনো মতেই কাঙিক্ষত না। আমাদের শতাধিক মেডিকেল কলেজ আছে। সেগুলোতে চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই, ভালো মানের শিক্ষক নেই; পর্যাপ্ত অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি ও রোগী নেই। এই অবস্থায় নতুন মেডিকেল কলেজ মেডিকেল শিক্ষার মান নিম্নমুখী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এটা দেশের কোনো উপকারে আসবে না।’

‘সুতরাং নতুন মেডিকেল কলেজ না করে যেগুলো আছে সেগুলো মানসম্মত করার চেষ্টা করা উচিত। প্রতিষ্ঠান মানসম্মত হলে ভালো চিকিৎসক তৈরি হয়। এলাকার মানুষ ভালো সেবা পায়, সর্বোপরি দেশ উপকৃত হয়। সরকার যদি বাকি জেলাগুলোতে নতুন করে মেডিকেল কলেজ দেয়, সেটা আমাদের ভালোর চেয়ে মন্দ হবে’—বলেন তিনি।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বর্তমানে যেসব মেডিকেল কলেজ রয়েছে, সেগুলোর অবকাঠামো উন্নত নয়। পাশাপাশি কলেজগুলোতেও শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে নতুন মেডিকেল কলেজ মান ঠিক রেখে করা হলে মঙ্গলজনক হবে, কারণ বাংলাদেশে এখনো অনেক চিকিৎসক প্রয়োজন। মানসম্পন্ন না হলে এখানে যারা পড়াশোনা করবে তারা সঠিক শিক্ষা পাবে না। যেহেতু এটি সরকারিভাবে করা হবে, আশা করি সরকার একে আধুনিক মেডিকেল কলেজ হিসেবেই গড়ে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান মেডিকেল কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট দূরীকরণ করার উদ্যেগ নিতে হবে। এতে পড়াশোনার মান উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে বের হবে।

 

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত