অবশিষ্ট সব জেলায় ৩ মে থেকে টিকাদান কর্মসূচি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় আগামী ৩ মে থেকে অবশিষ্ট সব জেলা উপজেলায় একযোগে টিকাদান কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী আক্রান্তদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এই বাস্তবতায় সরকার বর্তমানে ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তিনি আরও জানান, করোনাকালে অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে হামের ভ্যাকসিন কেনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি জেলার নির্বাচিত ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হলো। এরপর আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকা দেওয়া হবে। সবশেষে ৩ মে থেকে অবশিষ্ট সারা দেশে একযোগে বড় পরিসরে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শিশুদের পুষ্টির বিষয়েও নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, টিকার পাশাপাশি শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। তবে অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে এই মুহূর্তে টিকা না দিয়ে কেবল ভিটামিন 'এ' প্রদান করা হচ্ছে। অতীতের সরকারগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে বর্তমানে হামের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি সকলকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় যারা আমাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ আছেন সবাইকে আমি অনুরোধ করবো যে গ্রামের দিকে খেয়াল রাখবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, আমাদের বাচ্চারা যদি হাম আক্রান্ত হয়, সাথে সাথে আপনারা অভিভাবকদের বুঝিয়ে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেবেন, যাতে করে একটা সন্তানও যেন মৃত্যুর কোলে ঢলে না পড়ে, কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়, আপনারা সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
এছাড়াও ডব্লিউএইসও এবং ইউনিসেফের পরামর্শে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু হলো বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচ) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
এমআই/