প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে ঢামেকে ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মেডিকেল জোন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আলাদাভাবে সংগঠনটির উদ্যোগে ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। দুই দিনে এক হাজার চারশ’রও বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারী অংশ নিয়ে ইফতার করেন।
ডা. ফজলে রাব্বি হলে আয়োজিত ছাত্রদের ইফতার মাহফিলে আসরের নামাজের পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। পাশাপাশি হল ও ক্যাম্পাসের স্টাফদের জন্যও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। হলের মসজিদ ও মসজিদের ছাদে শিক্ষার্থীদের জন্য এবং রিডিং রুমে স্টাফদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় মেডিকেল জোনের সেক্রেটারি জুলফিকারসহ মেডিকেল জোনের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ছেলে ও মেয়ে উভয়ের দিনেই ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজের পর ফুচকা ও কফির ব্যবস্থা রাখা হয়। ফুচকা ও কফির আয়োজনে ছাত্রদের উচ্ছ্বসিত দেখা যায়।
ঢামেকের কে-৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাজালাল আল জেবায়ের ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে বলেন, ‘প্রথম বর্ষ থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত হলে থেকেছি, কিন্তু এর আগে এমন আয়োজন দেখিনি। আমরা প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি আয়োজনের সাক্ষী হলাম। এজন্য আমরা খুবই আনন্দিত। এত সুন্দর একটি আয়োজন উপহার দেওয়ায় ছাত্রশিবিরকে ধন্যবাদ।’
ইফতার মাহফিলে অংশ নেওয়া ঢামেকের পঞ্চম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের পর ছাত্রশিবিরের এই আয়োজন আমাদের ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশটি উপভোগ করার চেষ্টা করছে। এখানে দলমত নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছে। আমার অসংখ্য সনাতন ধর্মাবলম্বী বন্ধু এখানে এসেছে। ছাত্রশিবির ছাড়াও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিল। সবাই মিলে একসঙ্গে ক্যাম্পাসে যেন ঈদের আমেজ ফিরে এসেছে।’
ছাত্রশিবির সূত্রে জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ঢামেকে ছাত্রীদের জন্য মাদুর পেতে ইফতার ও মেহেদি উৎসব আয়োজনের কথা থাকলেও প্রশাসনের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমনকি ইফতার মাহফিল উপলক্ষে করা আলোকসজ্জাও খুলে ফেলতে হয়। এ অবস্থায় আয়োজকেরা ছাত্রী হলে ইফতার বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের মেডিকেল জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুই দিনে প্রায় এক হাজার চারশরও বেশি ছাত্রছাত্রী ও স্টাফকে ইফতার করানো হয়েছে। পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের আত্মিক সাধনার মাস উল্লেখ করে তারা জানান, এ উপলক্ষেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামী ছাত্রশিবির গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও আগামী ১ মার্চ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এবং ২ মার্চ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ইফতারের আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
টিআই/এমইউ