বিএমইউতে উদযাপিত হলো বিশ্ব এ্যানেসথেসিয়া দিবস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টদের অংশগ্রহণে বিশ্ব এ্যানেসথেসিয়া দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। র্যালি, সেমিনার ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনসহ নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিএমইউর বটতলায় বিশ্ব এ্যানেসথেসিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, এ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, বিশ্ব এ্যানেসথেসিয়া দিবস ২০২৫ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. হাসনুল আলম শামীম, সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ শামসুল আরেফীন প্রমুখ।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্টস ক্রিটিক্যাল কেয়ার এন্ড পেইন ফিজিশিয়ান্সের উদ্যোগে বিএমইউয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিভিন্ন জেলার এ্যানেসথেসিওলজিস্টরাও।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে উপস্থিত বিশেষ অতিথি ছিলেনডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ও বিশিষ্ট এ্যানেসথেসিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম (শাকিল) এবং বিএসএসিসিপিপির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক।
অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন, ‘আইসিইউতে রোগীদের সেবা দান, অপারেশন থিয়েটার ওটিতে অনিষ্ট্রুমেন্টে এ্যানেসথেসিওলজিস্টদের অবদান অপরিসীম। গত ৩০ বছরে এ্যানেসথেসিওলজি শাখা অভূতপূর্ব উন্নয়ন লাভ করেছে। তবুও দেশের চাহিদার তুলনায় এ্যানেসথেসিস্টদের সংখ্যা কম। সেজন্য প্রয়োজনেই সংশ্লিষ্ট পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ বাড়ানো।’
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ডা. লুৎফুল আজিজ, ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক ও ডা. মো. এনামুল হক মিল্টন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তারা আলোচনা করেন—সড়ক দুর্ঘটনা ও মুমূর্ষু রোগীদের সেবা প্রদানে এ্যানেসথেসিওলজিস্টদের ভূমিকা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) ব্যবহার, পেইন মেডিসিনের গুরুত্ব, রোগীকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা এবং ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রসারে এ্যানেসথেসিওলজিস্টদের অবদান নিয়ে।
ডা. মাহবুব জামান ও ডা. শারমিন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. ইউ এইচ শাহেরা খাতুন, অধ্যাপক ডা. কাজী মেসবাহ উদ্দিন ইকবাল, অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ডা. ফখরুন্নেছা, অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন, কর্নেল (অব.) রাজিয়া খানম এবং অধ্যাপক ডা. মান্নান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএমইউর এ্যানেসথেশিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, এ্যানেসথেসিয়া দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ডা. হাসনুল আলম শামীম, সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ শামসুল আরেফীন এবং ডা. সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ্যানেসথেশিয়া এবং এর সকল সাব-স্পেশিয়ালটির উন্নয়ন ও প্রসার জরুরি। তারা উল্লেখ করেন, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ্যানেসথেসিওলজি একটি অপরিহার্য শাখা। বর্তমানে এ্যানেসথেসিওলজিস্টরা কেবল ব্যথামুক্ত শল্য চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ নন, বরং মুমূর্ষু রোগীর নিবিড় পরিচর্যা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা নিরাময় এবং নিরাময় অযোগ্য রোগীর চিকিৎসা প্রদানে সাফল্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক শল্য চিকিৎসার অগ্রদূত হিসেবে এ্যানেসথেসিওলজিকে সর্বোচ্চ মানে উন্নীত করতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব এ্যানেসথেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে যাচ্ছে, যাতে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
টিআই/