০৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০১:২৩ পিএম

পূজায় মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঢামেক ছাত্রীর মৃত্যু

পূজায় মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ঢামেক ছাত্রীর মৃত্যু
দুর্গাপূজায় মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ হারান ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নন্দিনী সরকার (১৮)। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দুর্গাপূজা উদযাপনে ঝিনাইদহে মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নন্দিনী সরকার (১৮)। অসুস্থ হয়ে গত ৪ অক্টোবর রাত সোয়া তিনটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নন্দিনী সরকার মানিকগঞ্জ জেলার গিলান্দ গ্রামের অনিল চন্দ্র সরকারের মেয়ে।

ওই সময় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম মেডিভয়েসকে বলেন, রোগীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরের দিন সকালে ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রতিবেদন এলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জানতে চাইলে নন্দিনীর সহপাঠী কে-৮২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সানজিদ অপূর্ব বিন সিরাজ মেডিভয়েসকে বলেন, পূজার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নন্দিনী সরকার মাংস ও ডিমসহ এক সাথে অনেক রিচ ফুড খেয়ে ফেলে। সেই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর ছিল না। ফলে অস্বাভাবিক হয়ে যায়। সাথে সাথেই প্যালপিটিশন শুরু হয়, ঘামতে থাকে। আর গ্যাসের ব্যথাও দেখা দেয়। 

সানজিদ আরও জানান, রাত ১২টার দিকে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে চিকিৎসক ওয়াশ করার কথা বলেন। কিন্তু নন্দিনী পরের দিন মানিকগঞ্জ ফিরবেন বলে এই চিকিৎসার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় যেতে চাননি। অবস্থার উন্নতি হলে মামার বাসায় ফিরে যান। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হয়। সেদিন আরো বেশি ঘামতে থাকে। এর মাত্রা তীব্রতর হলে পরিবারের সদস্যরা অনেকগুলো ফ্যানের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু তাতেও স্বাভাবিক হননি নন্দিনী। পরে রাতেই তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। ততক্ষণে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পথে মারা যান তিনি। রাত তিনটার দিকে সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ধারণা তিনি স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

নন্দিনীর ছোট বোন বিনা সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ও একটু অসুস্থ ছিল। কিন্তু বাড়ির কাউকে বুঝতে দেয়নি। ঢাকা মেডিকেলের হোস্টেলে থাকতো, কিন্তু খাওয়া-দাওয়া ঠিক করতে পারতো না। এ কারণে শরীর প্রচুর দুর্বল ছিল। ঠিক মতো দাঁড়াতে পারে না। এর ওপর আবার ওর ঠাণ্ডা লেগেছিল। ডাক্তার ওষুধ দিল। খেয়ে ভালো লাগছে বলে জানালো। রাত ১টার দিকে বলে ভালো লাগছে না। ৪-৫ জন মিলে শৈলকূপা হাসপাতালে নিয়ে গেছি। অক্সিজেন দিয়ে কুষ্টিয়া পাঠালো। সেখানে গিয়ে কোনো কথা বলেনি। শৈলকূপা থেকে যাওয়ার সময় ওর বিপি ছিল ৭০/১০০। ডিম-স্যালাইন খাওয়ানো হয়েছিল। কুষ্টিয়া নিয়ে দেখি কোনো বিপি নেই।’

নন্দিনী কোনো পাণীয় পান করেছে কিনা—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কলেজ খোলার পর পরীক্ষা আছে। তাই সেখানে সারাদিন পড়াশোনা করেছে। রাতে আমাদের সঙ্গে মন্দিরে গেছে। সেখানে কিছুই খায়নি। আমি তার সঙ্গে সব সময় ছিলাম।’

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম খান জানান, শৈলকুপায় মামাবাড়ি বেড়াতে এসে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত