ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি পাঠিয়ে সরাসরি পণ্যের প্রচার (প্রোডাক্ট প্রোমোশন) বন্ধের সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন।
সোমবার (৫ মে) ঢাকার বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরেন কমিশনের সদস্যরা।
তারা জানান, এখন থেকে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র ডাক বা ই-মেইলের মাধ্যমে চিকিৎসকদের কাছে পণ্যের তথ্য পাঠাতে পারবে। সরাসরি সাক্ষাৎ করে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের নিরপেক্ষতার পাশাপাশি রোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কমিশন।
কমিশনের সদস্য ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসক-ফার্মাসিউটিক্যাল সংক্রান্ত নীতি সস্পর্কিত সুপারিশে কমিশন সুপারিশ করেছে, ওষুধের নমুনা বা উপহার দিয়ে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।’
এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়ানো এবং দুই বছর পরপর এই ওষুধের তালিকা আপডেট করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ক্যান্সার, ডায়বেটিসের ওষুধের ভ্যাট-কর মওকুফ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, অতিদরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষ সব ধরনের সেবা বিনামূল্যে পাবে। ১০ শতাংশ দরিদ্র রোগী বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা পাবে।
স্বাস্থ্যখাতের বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ ও বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দের সুপারিশ করেছে কমিশন।
কমিশনের সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, শুরুতে প্রেসক্রিপশনে ২৫ শতাংশ ওষুধের জেনেরিক নামে লিখতে হবে। পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ শতাংশ ওষুধের জেনেরিক নামে লিখতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইডিসিএলের আধুনিকায়ন ও বেসরকারি খাত থেকে মানসম্মত ওষুধ সংগ্রহে কৌশলগত ক্রয় জোরদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে সুপারিশে।
সোমবার (৫ মে) সকাল ১১টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন স্বাস্থ্যখাত কমিশনের সদস্যরা।
প্রতিবেদনের অন্যান্য সুপারিশগুলোর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিনামূল্যে এবং স্বতন্ত্র হেলথ ক্যাডার সার্ভিস গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সরকারি হাসপাতালে জনবল নিয়োগ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বৃদ্ধি, রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করেছে কমিশন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে সরকার ১২ সদস্যের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশনের প্রধান হিসেবে রয়েছেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান।
কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও হেলথ ইনফরমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক মো. মুহাম্মদ জাকির হোসেন, পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়েরা আখতার, শিশু নিউরো বিজ্ঞান বিভাগের নিউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নাইলা জামান খান, সাবেক সচিব এম এম রেজা, বিশ্ব স্বাস্থ্যখাত সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মুজাহেরুল হক, আইসিডিডিআরবি'র ডা. আজহারুল ইসলাম, স্কয়ার হাসপাতালের স্কয়ার ক্যানসার সেন্টারের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, গ্রিন লাইফ সেন্টার ফর রিউম্যাটিক কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, আইসিডিডিআরবি'র বিজ্ঞানী ডা. আহমেদ আহসানুর রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ওমায়ের আফিফ।
এসএইচবি/
-
১৮ অগাস্ট, ২০২৫
-
০১ অগাস্ট, ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টার কাছে খোলা চিঠি
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জুলাই চার্টারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান