২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৩:২৪ পিএম

ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান হবে রেফারেল ব্যবস্থা: অধ্যাপক সাইদুর রহমান

ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান হবে রেফারেল ব্যবস্থা: অধ্যাপক সাইদুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: অন্তরবর্তি সরকার আগামী ছয় মাস থাকলে আধুনিকায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে রেফারেল ব্যবস্থা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ‘রেফারেল ব্যবস্থাটি মূলত বহির্বিভাগ, রোগ নির্ণয় (ডায়াগনোসিস), এবং কিছু ওষুধের দোকান (ফার্মেসি) পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।’

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) শহীদ মিল্টন হলে ‘চিকিৎসক সপ্তাহ’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ, চিকিৎসকদের সুরক্ষা, পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণ, চিকিৎসকদের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণ, রোগীর নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনবল তৈরিসহ নানাবিধ সংস্কারের প্রয়োজনে আয়োজন করা হয়েছে ‘চিকিৎসক সপ্তাহ’।

আলোচনা সভায় অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ‘আধুনিকায়ন এবং রেফারেল ব্যবস্থা একে অপরের পরিপূরক। যথেষ্ট পরিমাণে আধুনিকায়ন না হলে রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর করা যায় না। একসময় কাগজভিত্তিক (পেপারভিত্তিক) রেফারেল ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, যেমন যখন পিজি হাসপাতাল ছিল, তখন সেই ব্যবস্থাতেই রেফারেল ছাড়া কেউ হাসপাতালে আসতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে মানুষ আধুনিক ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত আধুনিকায়ন ছাড়া এখন কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করা প্রায় অসম্ভব।

তবে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমরা যদি আগামী ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারি, তাহলে স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে আধুনিকায়নের মাধ্যমে। তবে সেটা মূলত বহির্বিভাগ (আউটপেশেন্ট) পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে (ইনডোর ডিজিটালাইজেশন) আমরা মনে করি না যে ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল করতে পারব।

রেফারেল ব্যবস্থাটি মূলত বহির্বিভাগ, রোগ নির্ণয় (ডায়াগনোসিস), এবং কিছু ওষুধের দোকান (ফার্মেসি) পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এই জায়গাগুলোকে প্রথম ধাপে আধুনিকায়ন করা হবে এবং সেই আধুনিকায়নই রেফারেল ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তুলবে।’

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চিকিৎসা একটি মহান ও অদ্বিতীয় পেশা। আমাদের নিজেদের আত্মসমালোচনা থাকা জরুরি—আমরা কী করছি, কতটা সেবা দিচ্ছি, সে বিষয়ে অসচেতন থাকা চলবে না। মানুষ আমাদের কতটা গ্রহণ করছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নিজেদের মধ্যে এবং সমাজের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক  তৈরি করতে হবে।’

স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ চারটি বিষয়ের সারসংক্ষেপ—

১. স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে "স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বাস্থ্যস্থাপনা সুরক্ষা অধ্যাদেশ" প্রণয়ন। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে "সুন্দর চিকিৎসা চর্চা (গুড মেডিকেল প্র্যাকটিসেস)" বিষয়ক নির্দেশিকা তৈরি এবং বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন।

২. একটি আধুনিক ও সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত কাঠামো (স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক) ও কার্যকরী কাঠামোর (অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক) ভিত্তিতে নতুন জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ঘোষণা।

৩. প্রয়োজনীয় পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় ঔষধনীতি শক্তিশালীকরণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ।

৪. বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতকে জনগণের অনুকূলে ও আধুনিকভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপযুক্ত সংস্কার, নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নির্ধারণ, মান নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

‘চিকিৎসা খাতে সংস্কার’ শিরোনামে আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. শাহীনুল আলম, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ বিএমইউ-এর শিক্ষকবৃন্দ, মেডিকেল শিক্ষার্থীরা এবং চিকিৎসক সপ্তাহ উদযাপন কমিটির সদস্যরা।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক