১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৯:৩৮ পিএম

হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

হাসপাতাল চালুর দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতাল চালু ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক অবরোধ করেছেন সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে অবরোধ শুরু করেন তাঁরা। পরে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে মিটিংয়ের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

অবরোধের কারণে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। খবর পেয়ে সকাল সোয়া ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুকান্ত সাহা সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে যান। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহমেদ ভুঁইয়াসহ তাঁরা বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর দুপুর একটার দিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ক্লাস বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

একই দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও কলেজে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে আন্দোলনরত চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা সড়ক অবরোধ স্থগিত করেছি। তবে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) আমাদের একটি প্রতিনিধিদল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাবে। এ ছাড়া ভিসি স্যারের মাধ্যমে আমরা স্বাস্থ্যসেবা সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবো। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

এ প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাক আহমেদ ভুঁইয়া মেডিভয়েসকে জানান, ‘শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি দ্রুত হাসপাতাল চালু করা এবং ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করা। ক্লিনিক্যাল ক্লাস আমাদের হাতে আছে, আশা করি আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমন্বয় করতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালসহ শিক্ষার্থীদের বিষয়গুলো নিয়ে আগামীকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সাথে বৈঠক করবো। সেখান থেকে কত দ্রুত একটা সমাধান সম্ভব হয়, তা আমরা জানতে পারবো।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সুনামগঞ্জ একটি হাওর অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার বেশ কিছু অঞ্চল, যেমনবিরাই, শাল্লা, তাহিরপুর, মধ্যনগর ও ধর্মপাশা অনেক ভিতরে। ফলে এসব এলাকার কোনো রোগী জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে চাইলে তাকে ওসমানী মেডিকেল বা সিলেট মেডিকেলে যেতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ। দূরের পথ হওয়ায় অনেক মানুষ যাত্রাপথে মারা যান। এ কারণে এলাকাবাসীও আজ আমাদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন।’

শিক্ষাথীরা আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে হয়। কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল চালু না থাকায় এই ক্লাসগুলো জেলা সদর হাসপাতালে সপ্তাহে দুই দিন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কলেজ থেকে হাসপাতালটির দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। যাতায়াতের জন্য কলেজের কোনো বাস নেই। ফলে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

‘মেডিকেল কলেজটিতে ২০২৩ সালে হাসপাতাল চালুর কথা ছিল। এরপর সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের কথা বলা হয়। এখন বলা হচ্ছে ২০২৬ সালে হবে। এটি চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি ‘ডেট লাইন’ ঘোষণা চাই আমরা’যোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

কর্মসূচি থেকে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লিনিক্যাল ক্লাস নিশ্চিত করা, ওয়ার্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠমো ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ, ক্লিনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রেজিস্টার নিয়োগ, সার্জারি, মেডিসিনসহ সব ক্লিনিক্যাল বিষয়ের যথাযথ ওয়ার্ড ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল চালুরও দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কলেজে পাঁচটি ব্যাচে ২৮০ জন শিক্ষার্থী আছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে মেডিকেল কলেজের সঙ্গে হবে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল।

এমআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত