ডা. পদবি নিয়ে রিট: ২৫ ফেব্রুয়ারি নিষ্পত্তি চান মেডিকেল শিক্ষার্থীরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত রিটের নিষ্পত্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এতে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ইন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট (ডিএমএফ) বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাদের পাঁচ দফা দাবি স্বাস্থ্যখাতে একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থা ও অনিশ্চয়তা দূর হবে, তেমনি অন্যদিকে রোগী এবং সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো—
১. এমবিবিএস/বিডিএস ব্যতীত কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না—বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) এ আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে ও বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সালে হাসিনা সরকার ডিপ্লোমা অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ইন মেডিকেল এ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং কোর্স-ম্যাটসদেরকে বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেয়া শুরু করেছে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওভার-দ্য-কাউন্টার (ওটিসি) তালিকা নবায়ন করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি তালিকার বাইরে ওষুধ পেসক্রিপশন করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি তালিকার বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
৩. স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। যথা—
ক. দ্রুত ১০,০০০ জন ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের পূর্বের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে।
খ. প্রতিবছর ৪,০০০-৫,০০০ ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে ও
গ. ডাক্তারদের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
৪. ম্যাটস ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি কলেজসমূহ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) পদবি রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে এবং
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
দাবিগুলো বাস্তবায়নে দেশের বেশ কিছু মেডিকেল কলেজে আন্দোলন চলমান রয়েছে। তবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে তাদের করা দাবিগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ নির্বিকার রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ প্রসঙ্গে সন্ধানী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সভাপতি ইসতিয়াক উদ্দিন মোহাম্মদ তাসকিন আজ বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণের কোনো পরিবেশ দেখছি না। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতায় আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা মনে করি, আমাদের দাবিগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের অন্যান্য সকল মেডিকেল কলেজের সাথে একাত্মতা পোষণ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষার্থী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে একাডেমিক শাটডাউন ও ২৫ ফেব্রুয়ারি লংমার্চ টু হাইকোর্ট কর্মসূচির পালন করা হবে। এর পরও দাবি মেনে না নেওয়া হলে কর্মসূচি আরও কঠোর হবে।
এদিকে একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।
টিআই/এমইউ
-
০৫ মে, ২০২৬
-
১৯ এপ্রিল, ২০২৬
ঢামেকে বৈজ্ঞানিক সেমিনারের তথ্য
জন্মগত ত্রুটিযুক্ত ৮০ ভাগ শিশুকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব
-
১৫ এপ্রিল, ২০২৬
অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপিতে ঢামেক শিক্ষার্থীরা
অধ্যাপক শহীদ আকনের বদলি রোগীসেবা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থপরিপন্থী
-
১২ এপ্রিল, ২০২৬