০৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৮:৩৯ পিএম

সরকার চাইলে বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়াতে পারে: পিএসসি চেয়ারম্যান

সরকার চাইলে বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়াতে পারে: পিএসসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। ছবি: সংগৃহীত

নবাব আব্দুর রহিম: বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়ানো যেতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মেডিভয়েসের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলছেন, ‘একজন চিকিৎসক বিসিএসে অংশ নিতে গড়ে আট বছর সময় পান। অন্যরা পাচ্ছেন দশ বছর। সে হিসাবে সরকার চাইলে তাদের বয়সসীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে।’

আগের বিসিএসগুলোতে যেখানে সাধারণ বয়সসীমা ছিল ৩০ বছর, তখনও ৩২ বছর পেতেন চিকিৎসকরা। এমবিবিএস সম্পন্ন করতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুই বছর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হতো তাদের। কিন্তু ৪৭তম বিসিএসে সে সুযোগ রাখা হয়নি। সবার মতোই ৩২ বছর রাখা হয়েছে তাদের বয়সসীমা।

ফলে বৃহস্পতিবার বয়সসীমা ৩৪ বছর করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন চিকিৎসকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পিএসসি চেয়ারম্যানের মন্তব্য জানতে চান মেডিভয়েস প্রতিবেদক।

আলাপকালে ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে চিকিৎসকদের বয়সসীমার বিষয়টি আলোচনায় রাখা হয়নি বলে জানান পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম। বলেন, ‘চিকিৎসকদের জন্য আগে বয়সসীমা ৩২ বছর রাখা হয়েছিল, কিন্তু সেটি এখন সবার জন্যই প্রযোজ্য।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা ১৮ বছর বয়সে আন্ডারগ্রাজুয়েট শুরু করি। সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে ৪ বছর লাগে, তাদের ৬ বছর। ডাক্তার হওয়ার জন্য তারা এই স্যাক্রিফাইসটি করেন। কিন্তু ৩২ বছরের মধ্যেই যত খুশি ততবার বিসিএস দেওয়া যাবে। ফলে আমার কাছে মনে হয়, এটি সবাইকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছে।’

তাদের (চিকিৎসক) বয়স তো কমিয়ে দেওয়া হয়নি। বত্রিশই আছে।’ উল্লেখ করে পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চিকিৎসকরা গড়ে ২৪ বছর বয়সে এমবিবিএস পাশ করেন। ২৪ থেকে ৩২, আট বছর হয়। আট বছর ধরে আপনি চাকরিতে চেষ্টা করবেন, এর বেশি আপনাকে দেওয়া হবে কেন? এটি তেমন যুক্তিযুক্ত না।’

তবে অন্যরা বেশি সময় পাচ্ছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওদের (চিকিৎসক) পড়াশোনার ধরণটি আলাদা। ফলে এখন যদি সরকার মনে করে এটি বিবেচনায় নেওয়া দরকার, তাইলে সেটা হতেই পারে।’

তবে ব্যক্তিগতভাবে সবার জন্য ৩২ বছর রাখাকে বৈষম্য বলে মনে করেন না এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি বৈষম্য। একেকটি পড়াশোনার ধরণ তো একেক রকমের। চিকিৎসকরা জেনেশুনেই আসেন যে এখানে শুধু তত্ত্বীয় পড়াশোনা হয় না, প্র্যাকটিক্যালিও পড়াশোনা করতে হয়।’

উল্লেখ্য, ২৮ নভেম্বর ৪৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট তিন হাজার ৪৮৭টি  ক্যাডারের বিপরীতে এই বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদ রয়েছে এক হাজার ৩৬১টি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সর্বোচ্চ বয়স ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু বাদ দেওয়া হয়েছে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত দুই বছরের সুবিধা। ফলে সাধারণ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দুই থেকে তিন বছর অতিরিক্ত সময়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর অসম এক প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে তাদের।

চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে সাধারণত ন্যূনতম ছয় থেকে সাড়ে ছয় বছর লেগে যায়। অন্যরা এক্ষেত্রে চার বছরেই শেষ করে ফেলে। ফলে চাকরির বয়সের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে দুই বছর পিছিয়ে থাকেন তারা।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক