দেশে প্রতিদিন দেড় হাজার অপরিণত শিশুর জন্ম, ঘণ্টায় মৃত্যু তিনজনের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে ১৬ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় অপরিণত অবস্থায়। বিশ্বে আকালিক বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুর এই হার সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কম ওজনের শিশু জন্মহার, ২৩ শতাংশ। তথ্য বলছে, প্রতিদিন এক হাজার ৩৪০টি শিশু এবং ঘণ্টায় ৫৬টি শিশু প্রিম্যাচিউরড অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে।
কিন্তু এসব শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও তার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে প্রতি ঘণ্টায় দেশের কোথাও না কোথাও অপরিণত ও কম ওজনের তিনটি নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘বাংলাদেশে অপরিণত শিশুর বোঝা, গৃহীত পদক্ষেপ ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক এক কর্মশালার আলোচকরা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও বিএসএমএমইউ যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।
বিশ্বের ১০৩টি দেশ নিয়ে করা গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে আইসিডিডিআর,বির মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের বিজ্ঞানী ড. আহমেদ এহসানূর রহমান বলেন, দেশে বছরে চার লাখ ৮৮ হাজার ৬০০ আকালিক নবজাতকের জন্ম হয়। ১০০ নবজাতকের মধ্যে ১৬.২টি শিশু আকালিক। বিশ্বে আকালিক শিশু জন্মের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে যথাক্রমে মালাবি, পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ নবজাতক প্রয়োজনের চেয়ে কম ওজন নিয়ে জন্মায়। এই হার বিশ্বে দ্বিতীয়। অকালে ও কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
২৮, ৩২, ৩৬ এবং ৪০ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম হলে নবজাতকের কী কী সমস্যা দেখা দেয় তার ব্যাখ্যা দিয়ে আহমেদ এহসানূর রহমান বলেন, ৪০ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম হলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস ও রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি থাকে। এসব নবজাতকের শরীরে তাপ কম থাকে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও কম থাকে। এতে নবজাতকের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এদের সেরিব্রাল পালসি, মৃগীরোগ বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি থাকে। তাদের মানসিক বিকাশও ঠিকমতো হয় না।
আইসিডিডিআর,বির এই বিজ্ঞানী বলেন, বাংলাদেশে বছরে অপরিণত ও কম ওজন নিয়ে জন্মানো ২৪ হাজার নয়শ’র বেশি নবজাতক মারা যায়। এর অর্থ প্রতি ঘণ্টায় এ ধরনের তিনটি নবজাতকের মৃত্যু হচ্ছে। গবেষকরা দেখেছেন, এ ধরনের নবজাতক মেয়ের চেয়ে ছেলে বেশি। ছেলেদের মৃত্যুহারও বেশি।
অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর চিকিৎসা ব্যবস্থা তুলে ধরে বিএসএমএমইউর নবজাতক বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, এ ধরণের নবজাতকের চিকিৎসায় তিনটি ব্যবস্থা আছে- এন্টিনেটাল কোরটিকোস্টেরয়েড (এসিএস), ক্যাঙারু মায়ের সেবা (কেএমসি) এবং নবজাতকের বিশেষ সেবা ইউনিট (স্ক্যানু)। কিন্তু পাঁচ শতাংশের কম নবজাতক কেএমসির সুযোগ পায়। আর দেশে মাত্র ৬২টি হাসপাতালে স্ক্যানু আছে, ২০২৪ সালে এক লাখ ২২ হাজার ৬১ নবজাতক সেখানে রাখা হয়েছিল। নবজাতকের সেবার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলো অনেক পিছিয়ে।
তিনি আরও বলেন, জন্মের পর মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে নবজাতককে রাখলে নবজাতকের মৃত্যু ২৫ শতাংশ কমানো সম্ভব।
কর্মশালায় বাংলাদেশ পেরিনেটাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে শিশু আকালিক হওয়ার কারণ জানা যায় না। তবে এসব শিশুকে এক সপ্তাহ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে ভালো ফল দেখা যায়।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, প্রসব-পূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী পর্যায়ে সেবা বা করণীয় সম্পর্কে জানা আছে। কিন্তু কাজগুলো ঠিকমতো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তদারকি ও নজরদারি বাড়ানো দরকার। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।
কর্মশালায় আকালিক ও অপরিণত নবজাতকের জন্মের পেছনে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণকে উল্লেখ করা হয়। জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে নবজাতকের ঝুঁকি কমে বলেও মন্তব্য করেন আলোচকরা।
এতে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি অংশ নেন।
এনএআর/
-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
তিন দিনব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় বিজ্ঞান সম্মেলন অনুষ্ঠিত
বিএসপিএমআর’র লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত অধ্যাপক কামরুল
-
০২ জুন, ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানে হামলা-ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টা
চাকরি হারাচ্ছেন বিএমইউর চিকিৎসকসহ ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী
-
১৬ মার্চ, ২০২৫
-
১১ মার্চ, ২০২৫