২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:০০ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজে বৈজ্ঞানিক সেমিনার

প্রধান চারটি জীবাণুর মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের হার ৯০ ভাগের বেশি

প্রধান চারটি জীবাণুর মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের হার ৯০ ভাগের বেশি
বৈজ্ঞানিক সেমিনারে উপস্থিতদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে অকার্যকার হয়ে পড়েছে অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক। প্রধান চারটি জীবাণুর ক্ষেত্রে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের হার এখন ৯১-৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ, অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই এসব জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম। এক বছর সময়কালে ২৫ হাজার ৫৬২টি নমুনার ফলাফল থেকে এমন ভয়াবহ তথ্য পেয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহবুবা চৌধুরী।

বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৪ উপলক্ষে এই সেমিনার আয়োজিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকারিতার এই ঊর্ধ্বমুখী হারের কারণে জটিল ধরনের সংক্রমণের রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে উল্লেখ করে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ বিন শহীদ বলেন, শক্তিশালী ও দামি অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা করানো ছাড়া উপায় থাকছে না। আবার এসব অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ভুগছেন অনেকে। যেসব জীবাণুর সংক্রমণ কোনো শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকেও সারছে না, সেসব মারাত্মক জীবাণুর সংক্রমণে বহু রোগী মারাও যাচ্ছেন।

সেমিনারে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের রোগীদের যেসব নমুনা মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাওয়া উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। আয়োজকরা বলেন, জীবাণুগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের পর দেখা গেছে, প্রায়ই হাসপাতালের রোগীদের যেসব জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ হয়, সেগুলোর মধ্যে প্রধান চারটি জীবাণুর ক্ষেত্রে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের হার ৯১-৯৮ শতাংশ। মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের অর্থই হলো, অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই জীবাণুকে নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম।

এ সময় আলোচকরা আরও বলেন, দেশে এখনো বহু মানুষ ওষুধের দোকানদারের অবৈজ্ঞানিক পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। অনেকে জানেনও না যে সেই ওষুধ একটি অ্যান্টিবায়োটিক। অথচ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। আবার চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন শুরু করার পর সেটির ডোজ সম্পন্ন করাও আবশ্যক। এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে সবারই।

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী হালদাররের সঞ্চালনায় সেমিনারে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. আসাদুজ্জামান, ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম ও উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈজ্ঞানিক সেমিনার ছাড়াও এদিন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে র‍্যালি, পোস্টার প্রেজেন্টেশন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সচেতনতা সপ্তাহ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক