নিপসমকে হেলথ ইউনিভার্সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনকে (নিপসম) পাবলিক হেলথ ইউনিভার্সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, নিপসমকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা গেলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হবে, যা গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।
গতকাল শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালী ক্যাম্পাসে নিপসমের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ছাড়াও সংক্রামক এবং অ-সংক্রামক ব্যাধি ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের ওপর নিপসমের গবেষণা ও অবদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ১৯৭৪ সালে নিপসম প্রতিষ্ঠার সময়ে দুটি স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্স নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে নয়টি এমপিএইচ প্রোগ্রাম এবং একটি এমফিল কোর্স পরিচালনা করছে। পাঁচ দশকে কয়েক হাজার জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী তৈরি করেছে, যারা দেশ-বিদেশে জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা সম্পন্ন করেছে। যেগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে নিপসমের ২২টি একাডেমিক বিভাগ এবং আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা আছে। জনস্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পরামর্শ সেবায় নিপসম শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নিপসমের অবদান গুরুত্বপূর্ণতিনি আরও বলেন, নিপসম একটি বিশেষায়িত জনস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হলে তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বাস্থ্য এবং জনস্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে। এ সময় ডক্টর অব পাবলিক হেলথ কোর্স চালু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ সৃষ্টি করার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এমএ আকমল হোসেন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যে অসমতা দূরীকরণে নিপসমের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিপসমের প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ সময় নিপসমকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের জন্য প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিপসমের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, নিপসমকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য জনস্বাস্থ্য গবেষণায় আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এ ছাড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসাইনও নিপসমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও গবেষণায় অবদানের কথা তুলে ধরেন। তারা নিপসমের অগ্রণী ভূমিকা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে দুটি পর্বের বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে আটটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয় এবং আরও ৮টি গবেষণাপত্রের পোস্টার প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে নিপসম পরিচালক অধ্যাপক ডা. জিয়াউল ইসলাম এবং কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার গবেষণাপত্রগুলোর উপস্থাপনার জন্য চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের প্রতিনিধিসহ নিপসমের শিক্ষক-কর্মচারী এবং জনস্বাস্থ্যের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এনএআর/
-
২৮ মে, ২০২৫
-
২২ নভেম্বর, ২০২৪
-
০৯ নভেম্বর, ২০২৪
-
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
০৫ জুন, ২০২৪
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নিপসমের নানা আয়োজন
‘সবুজ গাছ নির্মল বায়ু, কমবে দূষণ বাড়বে আয়ু’
-
০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪