‘জীবনের চার পর্যায়ে অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সচেতনতা সৃষ্টি করা খুবই জরুরি। চিকিৎসায় এই সমস্যা ভালো হয়। অন্যথায় মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে। এজন্য জন্ম, কৈশোর, গর্ভধারণ এবং পরিণত জীবনের এই চারটি সময়ে অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন।
গতকাল বুধবার (২৯ মে) রাজধানীর দ্য থাইরয়েড সেন্টারের সভাকক্ষে থাইরয়েড মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
দ্য থাইরয়েড সেন্টার ও বিটমিরের আয়োজনে বুধবার শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামীকাল শুক্রবার (৩১ মে) পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, জীবনে চারটি সময়ে অবশ্যই থাইরয়েড স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। প্রথমত জন্মের পরপরই, দ্বিতীয়ত বয়ঃসন্ধিকালে, এছাড়াও মায়েদের গর্ভধারণের পূর্বে ও বয়স ৪০ হওয়ার পরপর থাইরয়েড স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছেন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি ৫ জনে তিনজনই নারী। প্রতি দুই হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে একজন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। অথচ আক্রান্তদের ৬০ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে।
তিনি বলেন, থাইরয়েড রোগ বিস্তারে বংশগত। বিশেষ করে দাদি, নানি বা মা এদের থাইরয়েডে সমস্যা থাকলে শিশু ও আত্মীয়-স্বজনের থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। এ ৭০ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশই জানে না যে তারা এরই মধ্যে থাইরয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। এসব রোগীদের সচেতন করা দরকার। কারণ নিরব ঘাতক থাইরয়েড তাদের শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
থাইরয়েড রোগীদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দেওয়া ও সাধারণ মানুষের মধ্যে থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি লক্ষ্যে থাইরয়েড সেন্টার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে ২০১৭ সাল থেকে থাইরয়েড মেলা আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান অধ্যাপক ফজলুল বারী।
মেলার সেবার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, থাইরয়েড রোগীদের স্বল্পমূল্যে সুচিকিৎসা এবং যাদের থাইরয়েড হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাদের স্বল্পমূল্যে ও এক বছরের নিচে শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। থাইরয়েড মেলায় মাত্র ৩০০ টাকা ভিজিটে থাইরয়েড কনসালটেন্ট বা অধ্যাপকের সেবা পাওয়া যাবে।
এছাড়া মেলায় ৩ হাজার টাকায় থাইরয়েড চেকআপ (রক্ত, আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং ব্লাড গ্রুপিং) করা হচ্ছে এবং এক বছরের কম বয়সের শিশুদের বিনামূল্যে থাইরয়েড চেকআপ করা হচ্ছে। সবধরনের থাইরয়েড রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চালু রয়েছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস। ফলে অপারেশন থেকে রোগী ভর্তি সব সেবা এ থাইরয়েড সেন্টারে দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, যদি হঠাৎ ওজন বেড়ে যায় বা কমে যায়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, শীত বা গরম অসহ্য লাগে, শরীর ব্যথা করে, চুল পড়ে যায়, ত্বকের সমস্যা থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে থাইরয়েডের ঝুঁকিতে আছেন। এছাড়াও যদি বুক ধড়ফড় বা হাত/পা কাঁপে, গলার স্বর বসে যায়, পাতলা পায়খানা হয়, শারীরিক দুর্বলতা থাকে, নিঃসন্তান দম্পতি বা বারবার গর্ভপাত হয়, অনিয়মিত/কম/বেশি মাসিক হয়, তাহলে অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা করতে হবে। এ সমস্যাগুলো থাকলে রোগীর থাইরয়েডের ঝুঁকি আছে।
এনএআর/