১৪ মে, ২০২৪ ০৩:২০ পিএম

দেশে মিলেছে ‌উইলসন রোগের নতুন ২ মিউটেশন

দেশে মিলেছে ‌উইলসন রোগের নতুন ২ মিউটেশন
গবেষক দলের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিরল উইলসন রোগের নতুন ২টি মিউটেশন শনাক্ত করেছেন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষক দল। টার্গেট জিন থেরাপির মাধ্যমে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাও চলছে বিএসএমএমইউতে।

এ ছাড়া সারাদেশে মোট জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় ৬ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ‘বাংলাদেশি উইলসেন্স রোগীদের মধ্যে জেনেটিক পরিবর্তন এবং এর স্নায়বিক উপসর্গ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। বিএসএমএমইউর নিউরোলজি বিভাগ এবং অ্যানাটমি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল এবং এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। এ ছাড়া প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ডা. আতিকুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিবেদন তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু বলেন, গবেষণায় আমাদের মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৫০ জন, পুরুষ ২৮ জন এবং ২২ জন নারী। এর মধ্যে ৬ জন রোগীর ক্ষেত্রে ৩টি মিউটেশন পাওয়া গেছে, যার ২টিই বাংলাদেশে নতুন। টার্গেট জিন থেরাপির মাধ্যমে বিএসএমএমইউতে তাদের চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ৩০ হাজার জনে একজন উইলসন রোগে আক্রান্ত। সেই হিসাবে রোগীর সংখ্যা হবে ৬ হাজারের মতো। বিএসএমএমইউতে এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ২০০ জনের চিকিৎসা দিয়েছি। কারও মধ্যে এই রোগটি শনাক্ত হলে তাকে আজীবন চিকিৎসা নিতে হয়। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে সারা জীবন ভালো থাকার সুযোগ রয়েছে। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে এ রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। পরিবারের একজনের যদি রোগটি শনাক্ত হয়, তাহলে অন্যান্য সদস্যদের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি দ্রুত শনাক্ত করা গেলে ঝুঁকিমুক্ত থাকা সম্ভব।

ডা. আহসান হাবিব হেলাল বলেন, গবেষণা কাজে ব্যবহৃত রোগীদের বয়সসীমা ছিল ৯ থেকে ৬০ বছরের ভেতরে। এর মধ্যে অধিকাংশ রোগী পাওয়া গেছে ৯ থেকে ৩০ বছরের ভেতরে, এর সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে রোগীগুলো পেয়েছি, তাদের মধ্যে ঢোক গিলতে সমস্যা ছিল ২৭ জনের, হাত পায়ের কম্পন ছিল ২৮ জনের, হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ছিল ২১ জনের, অনিয়ন্ত্রিত ঘাড় মোচড়ানো সমস্যা ছিল ১৪ জনের, অনিয়ন্ত্রিত হাত পা মোচড়ানোর সমস্যা ছিল ১১ জনের ও নৃত্যের মতো অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া ছিল ৪ জনের।

নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের ফলে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, বাবা-মা দু’জনেরই যদি এই রোগের জিন থাকে, তাহলে সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য আমরা নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিবাহ না করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।

অনুষ্ঠানে উইলসন রোগে পারিবারিকভাবে আক্রান্ত হওয়া চারজনকে উপস্থাপন করা হয়।

উইলসন মূলত বিরল প্রকৃতির জিনগত একটি রোগ। এর ফলে যকৃত ও মস্তিষ্কের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বংশগত রোগ হওয়ায় এর সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব হয় না। তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত