পেট না কেটে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে ফরিদপুর মেডিকেলে অগ্ন্যাশয়ের পাথর অপসারণ
সাখাওয়াত হোসাইন: পেট না কেটে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর অগ্ন্যাশয়ের পাথর অপসারণ করা হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল মেডিকেলের সার্জারি বিভাগে অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে করা হয়।
সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রতন কুমার সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অপারেশনটি করেন সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ এস এম তানজিলুর রহমান। অপারেশনে সহযোগী হিসেবে ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, ডা. তোফাজ্জল হোসাইন, ডা. শরীফ জায়েদ আতীক, ডা. সামিয়া ইসলাম উপমা, ডা. তানজিম আহমেদ সিয়াম ও ডা. মাহমুদুর রহমান রিফাত। অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শাহাদাত হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাপস কুমার সরকার।
জানা গেছে, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ১৪ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা করাতে বিভিন্ন সময়ে ২০ বারেরও বেশি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমন কি ব্যথার চিকিৎসা নিতে চার বছর বয়সে একবার ভারতেও গিয়েছিলেন সুমাইয়া। তাতেও কোনো কাজ হয়নি, করা যায়নি সঠিক রোগ নির্ণয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পেটে ব্যথা নিয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমাইয়া ভর্তি হন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর অবশেষে সুমাইয়ার শরীরে অগ্ন্যাশয়ের দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ ও পাথর ধরা পড়ে। যেটি অত্যন্ত জটিল রোগ। পরে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন পেট না কেটে সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে এই হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার করবেন। ঠিক তা-ই করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সুমাইয়া সুস্থ আছেন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. রতন সাহা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বর্তমানে রোগীটি সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নিত্য-নতুন পদ্ধতিতে রোগীদের সেবা দেওয়ার এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’
এ প্রসঙ্গে ডা. এ এস এম তানজিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালে অত্যাধুনিক অনেক অপারেশন করছি। যার ফলে এই অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে।’
ডা. তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘জটিল এবং সময় সাপেক্ষ একটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
রোগীর মা জানান, ‘আমার মেয়ে আজকে ১২ বছর ধরে এই রোগে ভুগছে। আমি অনেক ডাক্তার, কবিরাজ ও ফকির দেখিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এই হাসপাতালে আসার পরে চিকিৎসকদের চিকিৎসা সেবায় অপারেশনটি সফল হয়ছে। বর্তমানে সুমাইয়া সুস্থ আছে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানীর বাইরে জেলা পর্যায়ে দক্ষিনবঙ্গে এই প্রথম এরকম সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে পেট না কেটে অগ্ন্যাশয়ের অপারেশন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে সিলেট ও কুমিল্লায় এই ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এটিকে দেশের স্বাস্থ্যখাতে জেলায় পর্যায়ের চিকিৎসা সেবায় মাইলফলক ও অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসএইচ
-
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
-
২৭ জুলাই, ২০২০