অকস্মাৎ সিদ্ধান্তে হতাশ-ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি: বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরতদের ভাতা বন্ধ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অধিভুক্ত ১২ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত রেসিডেন্ট ও নন-রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ভাতা প্রদান করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ কথা জানা গেছে।
ভাতা বন্ধের এমন অকস্মাৎ সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, সুবিধার বিষয়ে অবগত হয়ে যারা কোর্সে ভর্তি হয়েছেন, তাদের বেলায় এরূপ সিদ্ধান্ত আরোপ অন্যায্য। বরং নতুন করে ঘোষণা দিয়ে অনাগতদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ যৌক্তিক হতে পারে।
বিএসএমএমইউর চিঠিতে যা আছে
গত ৩১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ/পরিচালকের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ইনস্টিটিউটসমূহে নন-রেসিডেন্সি এমফিল/এমমেড/এমপিএইচ/ডিপ্লোমা প্রভৃতি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীগণের মাসিক পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আপত্তি নেই। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বিধায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রেসিডেন্ট/নন-রেসিডেন্টগণের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্টগণের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে (কপি সংযুক্ত)।’
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট রেসিডেন্ট/নন-রেসিডেন্টগণের উক্ত পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাঁদের রেসিডেন্টদের পারিতোষিক/বৃত্তি প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন নিয়েছেন (কপি সংযুক্ত)। এভাবে অন্যান্য বেসরকারি মেডিকেল কলেজ/ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন নিতে পারে। বিষয়টি আপনার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হলো।’
হতাশ ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
ভাতা বন্ধের এমন অকস্মাৎ সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও অযৌক্তিক।
এ প্রসঙ্গে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. জাবির হোসেন আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘বরাদ্দকৃত আসনগুলো তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তৈরি করেনি, বিএসএমএমইউ দিয়েছে। রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্সে আমরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই সুযোগ পাচ্ছি। দুই বছর আগে সুযোগ পেয়ে যখন শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে কোর্সে অধ্যয়ন শুরু করে, তখন তো এ ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। এখন সহসা ভাতা বন্ধের এমন সিদ্ধান্ত নতুনদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, যারা ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুরনোদের জন্য কিসের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যয়নরতরা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কথা জেনেই এসব ইনস্টিটিউটে সাবজেক্ট বেছে নিয়েছেন। সুতরাং হঠাৎ ভাতা বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা হবে অন্যায্য। তা ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান তো বিএসএমএমইউইর অধিভুক্তই। কোর্সে সুযোগ পাওয়ার আগে তারা যদি বলতেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আমাদের কোর্স গণ্য হবে না, তাহলে শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো বিষয় বেছে নিতেন না।’
ডা. জাবির হোসেন বলেন, প্রতি বছরই নতুন করে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে কিছু আসন বরাদ্দ দিচ্ছে বিএসএমএমইউ। যেমন—বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে অ্যানেসথেশিওলজিসহ আরও কিছু শাখায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আসন বরাদ্দ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুবিধা নিশ্চিত করা না হলে তো কথা ও কাজে মিল থাকলো না।
শিক্ষার্থীদের আস্থা হারাবে কোর্স?
রেসিডেন্সির তুলনায় এফসিপিএসে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতায় রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্স টিকিয়ে রাখতে হলে বিএসএমএএমইউ কর্তৃপক্ষকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে। তা না হলে বিএসএমএমইউইর এসব কোর্সের ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থা উঠে যাবে। ইতিমধ্যে তা কমছে। গত রেসিডেন্সি ভর্তি পরীক্ষায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী কমেছে, অন্য দিকে এফসিপিএসে প্রায় চার হাজার বেড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সহসা ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিএসএমএমইউ কী ভাবছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আজ শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখেছি, কোর্সের নিয়ম অনুযায়ী অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভাতা দিতে চাই। আপনারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, ... অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হলো, বেরসকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে ভাতা দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমতাবস্থায় যারা ইতিমধ্যে কোর্সে আছে, তাদের বিবেচনায় রেখে, ভবিষ্যতে নতুনদের জন্য বাস্তবায়ন করা হোক। এতে রেসিডেন্সি ও নন-রেসিডেন্সি কোর্সে যারা আসার আসবে, না হলে আসবে না।’
‘ভাতা বিষয়ে হার্ট ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে অনুমতি নিয়ে এসেছে। আমাদের ভাবনা হলো, তাহলে একইভাবে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে কোর্স চলছে ভবিষ্যতে তাদেরকে সরাসরি যেন বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমাদের এখানে দেওয়ার দরকার নেই’—যোগ করেন বিএসএমএমইউ ভিসি।
ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোর্সকে প্রভাবিত করবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জি, শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে যে শিক্ষার্থী কমেছে, তার অন্যতম কারণ ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা। ভবিষ্যতে ভাতা দেওয়া না হলে মেডিকেল উচ্চশিক্ষার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা কমে যাবে। সুতরাং ভাতা যা দেওয়া হচ্ছে, তা যেন চালু রাখা হয়।’
এএনএম/
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন
বিএসএমএমইউতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের সমাবেশ
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২১ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
প্রাইভেট পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের হুঁশিয়ারি
২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হলে কর্মবিরতির ঘোষণা