বিএসএমএমইউতে দ্বিতীয় ক্যাডাভেরিক কিডনি প্রতিস্থাপন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ফের সফল ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট পদ্ধতিতে সাফল্য পেল বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গতবারের ধারাবাহিকতায় বিএসএমএমইউর প্রক্টর ও ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্লান্ট সেলের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল এ ট্রান্সপ্লান্টে নেতৃত্বে দেন। সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের অপারেশনে ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ইসতিয়াক আহমেদ শামীম, অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম দীপু, ডা. ফারুক হোসেন, নেফ্রোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, অ্যানেসথেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, ডা. দিলীপ কুমার ভৌমিক ও ডা. আশরাফুজ্জামান সজীব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল অংশগ্রহণ করেন।
এবার ব্রেইন ডেড রোগী মো. মাসুম আলমের (৩৮) দুইটি কিডনি দু’জন কিডনি রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত নয়টায় বিএসএমএমইউতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। অপারেশন কার্যক্রম চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অপর কিডনি জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রাত সাড়ে ১২টায় প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের মো. নূর মোহাম্মদের সন্তান মো. মাসুম আলমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তার অভিভাবকরা তাকে ক্যাডাভার হিসেবে অঙ্গদানের সম্মতি প্রদান করেন।
তার দুইটি কিডনির একটি গ্রহণ করেছেন রাজধানীর মহাখালীর বাসিন্দা ৪৯ বছরের মোসাম্মৎ তাহমিনা ইয়াসীন। অপরটি জাতীয় কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (নিকডু) চিকিৎসাধীন এক রোগীর দেহে রাতেই প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জাকির হোসেন নামে ৪৪ বছর বয়সী ওই রোগী গত সাত বছর ধরে ডায়ালাইসিস করে আসছিলেন।
কিডনি প্রতিস্থাপনের শুরুতে বিএসএমএমইউ ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ কেবিন ব্লকের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) আসেন। তিনি কিডনিদাতা মো. মাসুমের পরিবারের সদস্য ও গ্রহীতার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় শারফুদ্দিন আহমেদ অঙ্গদাতা মাসুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
বিএসএমএমইউ ভিসি জানান, মাসুম মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণে গত চার মাস আমাদের হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন। চিকিৎসায় ভালো হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। গত পাঁচ দিন আগে আবার আমাদের হাসপাতালে আসেন। পুরোপুরি অজ্ঞান ছিলেন। ভর্তির পর থেকেই বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ( আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩৮ বছর বয়সী ওই রোগীকে বৃহস্পতিবার ব্রেইন-ডেড ঘোষণা করা হয়।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে কিডনি নিয়ে তা অন্য দুইজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সারাহ ইসলাম নামে ২০ বছরের তরুণীকে ১৮ জানুয়ারি ‘ব্রেইন ডেড’ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেদিন রাতেই তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুইজন নারীর শরীরে। সেই কিডনি নিয়ে সুস্থভাবে বেঁচে আছেন শামীমা আক্তার নামে এক নারী। তবে অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া সারাহের চোখের কর্নিয়া দেওয়া দুইজন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন, যারা বিএসএমএমইউতে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টেশনের বর্ষপূর্তিতে অংশ নিয়ে সারাহ ইসলামের স্মৃতিচারণ এবং তার মায়ের ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এএনএম/
-
২৬ জানুয়ারী, ২০২৪
-
১৭ জানুয়ারী, ২০২৪
-
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২