মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত কর্মচারীকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে ঘটনাটি ঘটে।
আহত হাসপাতালের ওই কর্মচারীর নাম মো. শাজাহান মোল্লা (৩৭)। এলএমএসএস পদে চাকরিত এ স্বাস্থ্যকর্মীর ঘিওর উপজেলার দ্বিমুখা গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে।
মো. শাজাহান মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার অসুস্থ এক বৃদ্ধা চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য হাসপাতালে যান। বেলা ১টার দিকে সরাসরি হাসপাতালে ফার্মেসির কক্ষের সামনে গিয়ে অসুস্থ ওই বৃদ্ধার জন্য ওষুধ নেন শাজাহান। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শাজাহান হাসপাতাল প্রাঙ্গণের কিছু দূর আসার পর অষ্টমতলা ভবনের সামনে গেলে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীউর রহমানসহ ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন মিলে তাঁকে কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এ সময় হাসপাতালের অন্যান্য কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। পরে অসুস্থ শাজাহানকে ওই হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়।
শাজাহানকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টমতলার একটি কক্ষে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শাজাহান মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বাবা ও কাকা মুক্তিযোদ্ধা। আমি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম। যুবলীগও করেছি। এখন মানব সেবায় কাজ করি। মুক্তিযোদ্ধার কোঠায় আমার চাকরি হয়েছে। ছাত্রলীগের হাতেই আমি মার খাইলাম, আহত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি। লজ্জায় পরিবারকে বলতে পারিনি। এ ঘটনা শুনলে আমার অসুস্থ বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাঁরা কী ব্যবস্থা নেয়, এর ওপর ভরসা করেই তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেননি। এ ব্যাপার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
তবে মারধরে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা শামীউর রহমান। এ ব্যাপারে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, হাসপাতালের এক কর্মচারী (শাজাহান) এক রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এতে তাঁর সঙ্গে ছোট পোলাপানের একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে তা মীমাংসা হয়ে গেছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ফার্মেসি কক্ষের সামনে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে হাসপাতালের বাইরে কয়েকজন ছেলে কর্মচারী শাজাহানকে সামান্য মারধর করেছেন। তিনি ঢাকায় ছিলেন, ফিরে বিষয়টি জেনে পদক্ষেপ নেবেন।
এএনএম/