০৯ নভেম্বর, ২০২৩ ০৭:০৭ পিএম

দেশে ১৯ শতাংশ নবজাতক অপরিণত

দেশে ১৯ শতাংশ নবজাতক অপরিণত
দেশে বর্তমানে অনূর্ধ্ব ৫ বছরের শিশুদের প্রতি এক হাজারে ৩১টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রতিবছর দেশে ৫ লাখ ৭৩ হাজার জন প্রিম্যাচিউরড বা অপরিণত শিশু জন্মগ্রহণ করে। যা মোট জন্ম নেওয়া শিশুর শতকরা ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। এই অপরিণত ও অল্প ওজনের বাচ্চাদের মধ্যে ২২ শতাংশ শিশু অনুর্ধ্ব ৫ বছরে মারা যায়।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে বিশ্ব অপরিণত শিশু ও বিশ্ব নিউমোনিয়ায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে নিওন্যাটোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম সবুজ প্রিম্যাচুউরিটি এবং শিশু বিভাগের শিশু পালমোলোজি ডিভিশনের সহকারী অধ্যাপক ডা. সীমা ভদ্র নিউমোনিয়ার উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রিম্যাচুরিটি নিয়ে বলা হয়, দেশে বর্তমানে অনুর্ধ্ব ৫ বছরের শিশুদের প্রতি এক হাজারে ৩১টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। প্রতি হাজারে ২০ জন নবজাতকের মৃত্যু হয়। এছাড়া বাংলাদেশে বছরে ৫ লাখ ৭৩ হাজার জন প্রিম্যাচুওরড বা অপরিণত শিশু জন্মগ্রহণ করে। যা মোট জন্মলাভ করা শিশুর ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। এই অপরিণত শিশু ও অল্প ওজনের বাচ্চার মৃত্যু অনুর্ধ্ব ৫ বছরে ২২ শতাংশ।

শিশু মৃত্যু রোধের তাগিদ দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হলে বর্তমান অনূর্ধ্ব ৫ বছরের বর্তমান শিশুর মৃত্যুর প্রতি হাজারে ৩১ থেকে ২৫ জনে, নবজাতকের মৃত্যু প্রতি হাজারে ২০ থেকে ১২ জনে নামাতে হবে। এই প্রিম্যাচিওর মৃত্যু হার কমাতে হলে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে এন্টিন্যাটাল সেস্টিকসটিরিয়ড, ক্যাঙ্গারু মাথার কেয়ার (কেএমসি) এবং অসুস্থ শিশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা। সরকার এই অপরিণত শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য স্ক্যানো এবং ক্যাঙ্গারু মাথার কেয়ার প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এদিকে নিউমোনিয়া প্রসঙ্গে সেমিনারে বলা হয়, নিউমোনিয়া একটি প্রতিরোধজনিত রোগ। বাংলাদেশে প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় ২৬ হাজার ৭৬৬ জন। এদের সবার বয়স ৫ বছরের নিচে। যা এই বয়সী মোট শিশুর মৃত্যুর ২৪ শতাংশ। নিউমানিয়া আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অঙ্গ সংগঠনগুলো, গ্লোবাল একশন প্লান ফর প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল নিউমোনিয়া অ্যান্ড ডাইরিয়া (জিএপিএডি) গঠন করা হয়। এর আওতায় কিভাবে শিশুর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া থেকে প্রতিকার ও রক্ষা পাওয়া যায় তার একটা নীতিমালা করা হয়েছে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে বলা হয়, নতুন নীতিমালার আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের নিউমোনিয়াজনিত শিশুর মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০ জনে ৩ জনের কমে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। যা কর্মশালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো, প্রতিটি বাচ্চাকে জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাসের পর বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য সম্পূরক খাবার দিতে হবে। শিশুদের ভিটামিন এ খাওয়াতে হবে। প্রতিটি শিশুকে টিকা দিতে হবে। ঘরে ও ঘরের বাইরে বায়ুদূষণ কমাতে হবে। শিশুরা অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে শিশুর মৃত্যু হার কমানো যাবে।

সেমিনারে প্রধান অতিথ হিসিবে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানামুখী উদ্যোগের কারণে দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভালো চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। এজন্য এখানে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোগী বৃদ্ধি পাবার আরও কারণ হলো পদ্মাসেতু চালু হওয়া। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ দিনে এসে দিনেই চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। রোগীদের সুবিধার্থে অনলাইন রিপোর্টিং চালু করা হয়েছে। সামনে মেট্রোরেল পুরোদমে চালু হলে রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এ সকল বাড়তি রোগীদের সেবা প্রদানের জন্য এখন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের  মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিওন্যাটোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সঞ্চয় কুমার দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল অব এক্সপার্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিপিএসের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনিস্টিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এসএস/এএনএম

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : নিউমোনিয়া
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত