হাম চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারে শেবাচিমে প্রশিক্ষণ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে শিশুদের হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ভেন্টিলেটরের বিকল্প হিসেবে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ মে) অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন ৫৩ জন চিকিৎসক ও নার্স।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিডিডিআর,বির অধ্যাপক অব পেডিয়াট্রিক্স ও অনারারি চিফ কনসালটেন্ট ডা. চৌধুরী আলী কাওসার বলেন, স্বল্পমূল্যের বাবল সিপ্যাপ যদি জেলা ও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চালু করা যায়, তাহলে খুব মারাত্মক রোগী ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে আর ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়বে না।
বরিশালের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বরিশালের হাম পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।’
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ, আইসিডিডিআর,বির মেটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড নিউট্রিশনের জ্যোষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর’বি) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী ও তাঁর সহকর্মীরা এই বাবল সিপ্যাপ উদ্ভাবন করেন। বাবল সিপ্যাপ একটি সহজ উপায়ের শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সেমিয়ায় (রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করে। এটি প্রথাগত ভেন্টিলেটরের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী এবং সাধারণ লো-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ এবং আইসিডিডিআর,বি-র কারিগরি সহায়তায় ইতিমধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৯৯ জন চিকিৎসক ও নার্সকে বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে বাবল সিপ্যাপ ইউনিটও সরবরাহ করা হয়েছে।
এমআর/