০৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০৭:২৩ পিএম

বিএসএমএমইউতে ‘রিসার্চ ইনোভেনশন সেন্টার’ স্থাপনের ঘোষণা

বিএসএমএমইউতে ‘রিসার্চ ইনোভেনশন সেন্টার’ স্থাপনের ঘোষণা
বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, আমাদের প্রত্যেক গবেষণার উদ্দেশ্য রোগ প্রতিরোধ করা। গবেষণার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, তা যেন জনসম্পৃক্ত হয়।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘রিসার্চ ইনোভেনশন সেন্টার’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে ফিজিওলজি বিভাগের আয়োজনে ‘শরীরের নিম্নাংশের চর্বি কেন ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে?’ শীর্ষক সেমিনারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই রিসার্চ ইনোভেনশন সেন্টার স্থাপনের এ ঘোষণা দেন তিনি।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণার কাজ শুরু করবো। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিসার্চ ইনোভেনশন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই সেন্টারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবার মনে রাখা দরকার, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক ও রেসিডেন্টদের গবেষণা করার সক্ষমতা রয়েছে। তারা চাইলেই গবেষণা করতে পারেন। তবে তাদের গবেষণার কাজে আগ্রহী করতে হবে। গবেষণা করার পদ্ধতি শেখাতে হবে।’

এই সেমিনারে সুইডেনের উপসালার এনকোপিং হাসপাতালের ডায়বেটিস ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেফতুন আহমেদ খন্দকার প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এতে বলা হয়, দেহের নিতম্ব অংশের চর্বিকোষ পেটের চর্বিকোষ থেকে আলাদা। টাইপ-২ ডায়বেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি পেটের চর্বিকোষ বাড়ায়, কিন্তু নিতম্বের চর্বিকোষ ঝুঁকি কমায়। গবেষণার লক্ষ্য ছিল, আধুনিক প্রযুক্তি প্রোটেওমিক্স অ্যান্ড জেনোমিকস টেকনিক ব্যবহার করে এটা জানার চেষ্টা করা যে, কীভাবে এই পার্থক্যটা হচ্ছে। গবষেণায় প্রথমে ৬ জন সুস্থ নারীর পেট ও নিতম্বদেশের চর্বিকোষ নেওয়া হয়। তাতে বিদ্যমান প্রোটিনগুলো আলাদা করা হয়।

‘টু ডাইমেনশনাল জেল ইলেক্ট্রোফ্রোরেসিস জিস টেনডেম ম্যাস স্পেকট্রোমেট্রি’ পদ্ধতিতে এটি করা হয়। ট্রান্সক্রিপটোমিক প্রোফাইলস এসসি-আরএনএসেক জিস ইমিউনোহিস্টকেমেস্ট্রি দিয়ে স্যাম্পলগুলো ফলোআপ করা হয়। এতে পেটের চর্বির তুলনায় নিতম্বের চর্বিতে ১৩১টি প্রোটিন পরিমাণে দ্বিগুণ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে হ্যাপ্টোগ্লোবিন প্রোটিনটা পাওয়া যায় ১৮ গুণ বেশি। অধিকতর বিশ্লেষণ করে আরও অনেকগুলো প্রোটিন পাওয়া গেল নিতম্বের চর্বিতে, যারা বিক্রিয়াজনিত ক্ষয় রিডক্স এনড অক্সিডেটিভ অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।

এই গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রস্তাবনা করা হয়, নিতম্বে হ্যাপ্টোগ্লোবিন বেশি উৎপন্ন হয়, যা প্রহরীর কাজ করে নতুন চর্বিকোষের জন্য। কোষে কোষে বিক্রিয়াজনিত ক্ষয় প্রতিরোধ করে ডায়বেটিস ও হৃদরোগ রোধে যা কাজ করে।

বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক গবেষণার উদ্দেশ্য রোগ প্রতিরোধ করা। গবেষণার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, তা যেন জনসম্পৃক্ত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বেশ কিছু গবেষণা কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। আমরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফাস্ট ফুডের ওপর গবেষণা করেছি। গবেষণার পর বলতে পারি, যেসব খাবারের স্বাদ যত বেশি, সেসব খাবারের অধিকাংশই শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

টিআই

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী

‘হামের টিকা নিয়ে গাফিলতির ঘটনায় তদন্তের প্রয়োজন নেই’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত