১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ০৫:৩৭ পিএম

ফাইনাল প্রফ: ৩ বিশ্ববিদ্যালয়েই সেরা নারী শিক্ষার্থী

ফাইনাল প্রফ: ৩ বিশ্ববিদ্যালয়েই সেরা নারী শিক্ষার্থী
ডা. শাফীন সেহেলী খান, ডা. ইয়েশমা সাভিন্দি মুদালিগামা ও ডা. সিরাজুম মুনিরা (বাঁ থেকে)।

সাখাওয়াত হোসাইন: সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থী মেডিকেলের সর্বোচ্চ নম্বর অনার্স মার্ক পেয়ে চিকিৎসক হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, দেশে ৩৭ সরকারিসহ ১১০টি অনুমোদিত মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এই মেডিকেল কলেজগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম দেশের ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি), চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সিএমইউ) ও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট)।

এর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিন বিশ্ববিদ্যালয় এমবিবিএস ফাইনাল প্রফের প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে পেরেছে, আর সাস্টের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফলে সেরা তিন জনই নারী।

ঢাবি অধিভুক্ত ৫০টিরও অধিক মেডিকেল কলেজের মধ্যে সেরা ফলাফল করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (এমএমসি) শিক্ষার্থী ডা. শাফীন সেহেলী খান, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) অধিভুক্ত ২৪টি মেডিকেল কলেজের এক হাজার ৯২২ জন শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে সেরা হয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. সিরাজুম মুনিরা, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) অধিভুক্ত ১৬টি মেডিকেল কলেজের দেশি-বিদেশি এক হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সেরা ফলাফল করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (সিএমসি) শ্রীলংকার শিক্ষার্থী ডা. ইয়েশমা সাভিন্দি মুদালিগামা। সিএমইউর ফাইনাল প্রফে তিনিই প্রথম অনার্স মার্কধারী শিক্ষার্থী।

ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার সিলেবাসে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি—এই তিনটি বিষয় রয়েছে। ডা. শাফীন সেহেলী খান সব বিষয়ে মেডিকেলের সর্বোচ্চ নম্বর অনার্স মার্ক পেয়েছেন। প্রায় ছয় হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান করেছেন এমএমসির ২০১৭-১৮ সেশনের এই শিক্ষার্থী।

জামালপুরের মেয়ে ডা. শাফীনের বেড়ে ওঠা ময়মনসিংহ জেলা শহরে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। শাফীন ময়মনসিংহ শহরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ সম্পন্ন করেন।

ডা. শাফীনের বাবা অধ্যাপক ডা. মো. মনজুর উল করিম খান (ডা. এম কে খান) ও মা অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানা। অধ্যাপক মনজুর উল করিম কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজে ইএনটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ডা. সেহেলী জান্নাত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। ডা. শাফীনের একমাত্র ছোট ভাই মো. সামিউল করিম খান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।

এর আগে প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় তৃতীয় ও দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান এবং তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স মার্ক পেয়েছিলেন ডা. শাফীন সেহেলী খান।

জানতে চাইলে ডা. শাফীন সেহেলী খান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এই অনুভূতিটা প্রকাশ করাটা আসলে খুব কঠিন। ফলাফল দেখে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা, এতো ভালো ফলাফল করতে পেরেছি। স্যার-ম্যামরা অনেক সহযোগী ছিলেন। শিক্ষকদের অবদান অনেক বেশি রয়েছে, তাঁরা অসাধারণভাবে পড়িয়েছেন। ফলাফল দেখে আমার আব্বু-আম্মু অনেক খুশি হয়েছেন।’

গত ৯ জুলাই রামেবির ফাইনাল প্রফের প্রকাশিত ফলাফলে এক হাজার ৯২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য এক হাজার ৩৭৮ জন চিকিৎসকের মাঝে একমাত্র অনার্স মার্ক পাওয়া শিক্ষার্থী ডা. সিরাজুম মুনিরা।

তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা গ্রামে। বাবা-মা ও তিন ভাই-বোন নিয়ে তাঁর পরিবার। বাবা খোট্টাপাড়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। মা গৃহিনী। বাবার মাদরাসা থেকেই ডা. মুনিরার পড়ালেখার হাতেখড়ি হয়। খোট্টাপাড়া ফাযিল মাদরাসা থেকে ২০১৫ সালে কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাস করেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে বগুড়া শহরের পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন এ কৃতি শিক্ষার্থী। ২০১৭-১৮ সেশনে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় সারাদেশে ৯১৯তম হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ যাত্রা শেষে নামের পূর্বে ডাক্তার লিখার সুযোগ হয়েছে মুনিরার। তাঁর পরিবারের একমাত্র চিকিৎসক তিনি।

জানতে চাইলে ডা. সিরাজুম মুনিরা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। ভালো ফলাফল করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। সত্যি বলতে আমি কখনও ভাবিনি, এতো ভালো ফলাফল করতে পারবো। সব মিলিয়ে অনেক ভালো লাগছে।’

সিএমইউর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন দেশি-বিদেশি এক হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ৮৩৭ জন, একমাত্র অনার্স মার্কধারী শিক্ষার্থী ডা. ইয়েশমা সাভিন্দি মুদালিগামা।

২০১৮ সালের শুরুর দিকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সেভেন্দি। ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক)। এখন শুধু তাঁর স্বপ্ন পূরণই হয়নি, মেডিকেলে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার রেকর্ডও করেছেন তিনি।

১৯৯৭ সালে ১০ আগস্ট শ্রীংলকার রাজধানীর কলম্বোতে জন্মগ্রহণ করেন ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা। তাঁর বাবা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মা গৃহিনী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। তাঁর ছোট ভাই দুশান মুদালিগামা কলম্বোতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে শ্রীংলকার রাজধানী কলম্বো থেকে মুঠোফোনে ডা. সাভিন্দির সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, সেই সঙ্গে গর্ববোধ করছি। ভালো ফলাফল করবো আশা করেছি, তবে প্রথম হবো কিংবা এতো ভালো ফলাফল করবো তা আশা করিনি। আমার এ ফলাফলে আব্বু-আম্মুসহ পরিবারের সদস্যরা অনেক খুশি হয়েছেন। প্রথম থেকে আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতাম। টেক্সটবুকের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। লেকচারগুলো ফলো করেছি। স্যারদের অনুসরণ করতাম, ক্লিনিক্যাল ক্লাসের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।’

এসএইচ/এসএস/এমইউ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ফাইনাল প্রফে সেরা
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক