খুব বেশি প্রত্যাশা রাখা যাবে না: ঢাবির তৃতীয় প্রফে অনার্সধারী প্রসেনজিৎ
সিলেটের প্রসেনজিৎ নাগ। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেন চিকিৎসক হয়ে এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিবেন। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কে-৭৬তম ব্যাচে। আর কিছুটা পথে গেলেই নামের আগে ডাক্তার শব্দ লিখার সৌভাগ্য অর্জন করবেন প্রসেনজিৎ। সেইসঙ্গে বংশের একমাত্র চিকিৎসক হবেন তিনি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে ঢাকা মেডিকেল থেকে সব বিষয়ে অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে প্রসেনজিৎ অন্যতম। ফলাফল প্রকাশের পর ডিএমসির সবুজ চত্বরে নাগের সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে উঠে আসে তাঁর সাফল্যের নানা গল্প।
অনুভূতি ও কৌশল
প্রসেনজিৎ নাগ: তিন বিষয়ে অনার্স মার্ক পাওয়া একটা আনন্দের বিষয়। আমি চতুর্থ বর্ষের শুরু থেকেই স্বপ্ন দেখতাম ভালো কিছু করবো। অনার্স পাওয়া লাগবে এমন না, তবে ভালো কিছু করতে হবে, ভালোভাবে জানতে এবং শিখতে হবে। যাতে পরের ফেইজগুলো সুন্দর হয়, এটাই মূল বিষয়। মা-বাবার সবার আগ্রহ ছিল আমি যেন ভালো ফলাফল করি। আমার পরিবারে কোনো চিকিৎসক নেই। পড়াশোনা বলতে আমি স্যারদের লেকচারগুলো বেশি ফলো করতাম। যেগুলো বুঝতে সমস্যা হতো, সেগুলো মূল বই থেকে স্পষ্ট ধারণা নিতাম। এছাড়া বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে নিতাম। বিগত বছরের প্রফে যেসব প্রশ্ন এসেছে, সেগুলোও ভালো করে পড়েছি। টিউটোরিয়াল ব্যাচের শিক্ষক এবং শিক্ষিকারা অনেক সহায়ক ছিল। শিক্ষকদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
অনুপ্রেরণা
প্রসেনজিৎ নাগ: আমার বাবা এবং দাদির অনেক ইচ্ছা ছিল আমি যেন চিকিৎসক হই। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম আমি চিকিৎসক হবো। আমারও অনেক আগ্রহ গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করবো। আমাদের এলাকার মানুষ সঠিক চিকিৎসা পায় না। ফার্মেসিতে অনেক ভুল ওষুধ রোগীদের দেওয়া হয় আর এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্টতো আছেই। এই জিনিসগুলো আমাকে খুব ব্যথিত করে। আমার ছোটবেলার একজন শিক্ষক অনুপ্রেরণা দিয়েছেন চিকিৎসক হতে হবে। তিনিই আমাকে মূল অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। বাবা-মা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেন। পরীক্ষার সময়ও খোঁজ খবর রাখেন। যেকোনো সমস্যায় মা-বাবাকে জানাই, তারাও আমাকে সহযোগিতা করেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন।
চ্যালেঞ্জ
প্রসেনজিৎ নাগ: মেডিকেল লাইফটা অনেক ভালো লাগে, তবে চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন সকালে উঠে সাতটায় ক্লাসে যাওয়া এবং দুইটা পর্যন্ত ক্লাস থাকে। আবার ইভিনিং ক্লাসও থাকে, এগুলো একটু কঠিন। মেডিকেল লাইফটাকে মেইনটেইন করা জানতে হবে। প্রত্যেকটা দিনই আমাদের খুব বেশি প্রত্যাশা রাখা যাবে না। যেই কাজটাই করবো, নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো। ফলাফল কি হবে, সেটা দেখার বিষয় নয়। ভালো কাজ করলে একসময় ফেরত পাবো।
মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসা
প্রসেনজিৎ নাগ: গ্রামে যেসব শিক্ষার্থী আছে, তারা মনে করে মেডিকেল আসা খুবই কঠিন। আসলে কিন্তু এতোটা কঠিন নয়। মেডিকেলে যারা চান্স পায়, বেশির-ভাগ গ্রাম-অঞ্চল থেকে আসা। মনের মধ্যে বিশ্বাস রাখতে হবে এবং চেষ্টা করতে হবে। সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে হবে, তাহলেই সম্ভব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রসেনজিৎ নাগ: ইন্টার্ন শেষ করার পর বিসিএস দেওয়ার ইচ্ছা আছে। সুযোগ হলে উপজেলা লেভেলে কাজ করবো, রোগীরা যাতে সঠিক চিকিৎসা পান। কোন বিষয়ে ক্যারিয়ার করবো, এখনও ঠিক করিনি। তবে ইন্টারনাল মেডিসিন এবং কার্ডিও সার্জারির প্রতি আগ্রহ আছে। ইন্টার্নশিপ শেষে দেখা যাবে, কোনটাতে যাবো।
প্রফে সাফল্যের ধরে রাখতে করণীয়
প্রসেনজিৎ নাগ: প্রফে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইলে একা থাকা যাবে না। বন্ধুদের সঙ্গে মিলে পড়াশোনা করতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে, এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা। সেইসঙ্গে হতাশ হওয়া যাবে না, আশা রাখতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে হবে।
মেডিকেল লাইফে বাধা ও সম্ভাবনা
প্রসেনজিৎ নাগ: মেডিকেল লাইফটা অনেক কঠিন। প্রতিদিন ওয়ার্ডে ও ক্লাসে সময় চলে যায়। নিজের জন্য সময় খুব কম পাওয়া যায়। এরপর সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের জন্যও সময় খুব একটা থাকে না। তবে আমরা সরাসরি রোগীর কাছে যেতে পারি, মানুষকে সেবা দিতে পারি, অসুস্থ রোগী সুস্থ হয়ে আসলে আমাদের যে অনুভূতিটা থাকে, তা বলার মতো নয়।
বেড়ে ওঠা
প্রসেনজিতের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। তাঁরা তিন ভাইবোন। বাবা সরকারি কৃষি কর্মকর্তা ও মা গৃহিনী।
এসএএইচ
-
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
-
২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪
-
২৯ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪
-
২৭ নভেম্বর, ২০২৪