২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৩:৩৭ পিএম

সেই স্বপ্ন এখন সত্য হয়েছে: ঢাবির তৃতীয় প্রফে অনার্সধারী ফাবিহা

সেই স্বপ্ন এখন সত্য হয়েছে: ঢাবির তৃতীয় প্রফে অনার্সধারী ফাবিহা
ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা।

এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষে উঠার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতেন তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার সবগুলো বিষয়ে ভালো করবেন এবং অনার্স মার্ক পাবেন। সেই স্বপ্ন এখন সত্যি-ই হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) কে-৭৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০১৮-১৯ সেশনের এমবিবিএস তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে সব বিষয়ে মেডিকেলের সর্বোচ্চ নাম্বার অনার্স পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের তিন শিক্ষার্থী, এরমধ্যে ফাবিহা হৃদিতা একজন। ফল প্রকাশের পর ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিএমসির সবুজ চত্বরে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে তাঁর সাফল্যের নানা গল্প।

অনুভূতি ও কৌশল

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, আমি অনেক খুশি হয়েছি। চতুর্থ বর্ষে উঠার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতাম তৃতীয় প্রফের সবগুলো বিষয়ে ভালো করবো এবং অনার্স মার্কস পাবো। এখন স্বপ্নটা সত্যি-ই হয়েছে। আসলে মানুষের তো অনেক রকম ইচ্ছা-ই থাকে, যেমন- ডিএমসিতে আসার আগে থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, আমি ডিএমসিতে ক্লাস করতেছি। তৃতীয় বর্ষে ফরেনসিক মেডিসিন পড়তে ভালো লাগলেও কমিউনিটি মেডিসিন পড়তে একদমই ভালো লাগতো না। এরপর চতুর্থ বর্ষের প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি ও ফার্মাকোলজির মতো ইন্টারেস্টিং সাবজেক্টগুলো পড়তে খুব ভালো লাগতো। এই সাবজেক্টগুলোর আমাদের জীবনে প্রাকটিক‍্যাল আবেদনও রয়েছে। এজন্য চতুর্থ বর্ষের প্রথম থেকেই অনেক চাপ থাকলেও এই সাবজেক্টগুলো পড়তে ভালো লাগতো।

যে অনুপ্রেরণায় আসা

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: আমি ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে অনেক বেশি ক্লোজ। বাবা-মেয়ের সম্পর্কটা অনেক সুন্দর, কিন্তু আমি মনে করি, আমাদেরটা অনেক বেশি ইউনিক। বাবা একজন চাইল্ড স্পেশালিস্ট এন্ড চাইল্ড কার্ডিওলজিস্ট। ছোটবেলা থেকে বাবার পিছনে পিছনে ঘুরতাম। দেখতাম, তিনি রোগী দেখছেন। তখন থেকেই এই প্রফেশনের প্রতি ভালো লাগা।

উপভোগ

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: ডিএমসিতে পড়ার স্বপ্নটা যেমন সত্যি হয়েছে, তেমনি অনার্স মার্ক  পাওয়ার স্বপ্নটাও সত্যি হয়েছে। স্বপ্ন সত্যি হলে কার না ভালো লাগে! অনুভূতিটা খুবই সুন্দর। মেডিকেল লাইফে অনেক চাপ, কষ্ট তো আছেই। আমরা জানি এমবিবিএস সবচেয়ে কঠিন কোর্স। আমরা মানবদেহের সাথে ডিল করি। অন্যান্য প্রফেশনে ভুল হলেও মানুষের জীবনের ঝুঁকি থাকে না। এইজন‍্যই আমাদের ভালো করে শিখতে হবে, সব কিছু, ভুল করার সুযোগ নেই। আগে জানতাম, এখানে চাপ আছে। কিন্তু আসার পর মনে হলো যা জানতাম, তার চেয়েও চাপ বেশি। এটা নিয়ে একটু কষ্ট হয়।

চ্যালেঞ্জ

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: বাংলাদেশের মেডিকেল কারিকুলামে প্র্যাক্টিক্যালের চেয়ে থিওরিটিক্যাল বেশি। উন্নত দেশগুলোতে প্র্যাক্টিক্যাল বেশি। আমাদেরও প্র্যাক্টিক্যাল নলেজ বেশি থাকা উচিত থিওরি বা মুখস্থভিত্তিক কম হয়ে। এজন্যই মনে হয়, আমরা উন্নত দেশ থেকে পিছিয়ে আছি। থিওরি ভিত্তিক পড়াশোনা না হয়ে প্র্যাক্টিক্যাল পড়াশোনা বেশি হওয়া উচিত। আর অল্প সময়ে অনেক বড় সিলেবাস শেষ করতে হয়, এতে আউটপুট বেশি ভালো হয় না। যদিও সবাই চাপে পড়ে পড়তেছে। পরীক্ষা এবং পড়াশোনা-দুইটার-ই চাপ কমানো উচিত।যেনো শুধু পড়াশোনা নয়, অন্যান্য সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও আমরা সমানতালে এগিয়ে যেতে পারি। সময়ের অভাব এবং পড়াশোনার চাপের কারণে অন্যান্য সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কম পাওয়া যায়।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: এরকম ধারণা রাখা উচিত না যে অনার্স মার্ক পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করবো। অনার্স মার্ক পেতেই হবে এবং প্লেস করতেই হবে- এই চিন্তা  থেকে-ই হতাশা শুরু হয়। কারণ মেডিকেলে শুধু পাস করতেই ৬০ শতাংশ নাম্বার তুলতে হয়। যারা পড়ে, তারা জানে কতটুকু পরিশ্রম করতে হয়। অনার্স আর প্লেস একটা উপহারের মতো, পাইলেও ভালো, না পাইলেও ভালো। পেতেই হবে, এরকম কিছু নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ভালো,দক্ষ এবং মানবিক চিকিৎসক হওয়া। যাতে রোগীর চিকিৎসা  ভালোভাবে দিতে পারি। ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠি নিজেই বলেছেন, তিনি ব্যাকবেঞ্চার ছিলেন। তিনি কি খারাপ ডাক্তার? অবশ্যই না। শুধু অনার্স মার্ক বা প্লেস-এরকম লক্ষ্য আমাদের রাখা উচিত নয়। ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য নিয়ে পড়াশোনা করা উচিত, যেটা ভাগ্যে আছে, সেটাই হবে।

যেখানে দেখতে চায়

ফাবিহা ফেরদৌস হৃদিতা: সবাই ইন্টার্নির সময় পছন্দ করে কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চায়। ইন্টারনাল মেডিসিনে ক্যারিয়ার করার ইচ্ছা আছে, ইন্টার্নির সময় অন্যটা ভালো লাগলে অন্যটাতেও যেতে পারি। বাংলাদেশে থাকার ইচ্ছা আছে। নিজ দেশে রোগী দেখার মধ্যে যে আনন্দ এবং স‍্যাটিসফেকশন, এটি বিদেশ গিয়ে পাওয়া যাবে না; যদিও বিদেশে বেতন-ভাতা অনেক বেশি এবং উন্নত জীবন যাপন করা যায়। আগে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এটা কিছুটা কমে গেছে এখন। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। নিজেকে একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চাই। সেইসঙ্গে সুযোগ পেলে মেডিকেল কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী করে তুলবো। যাতে শিক্ষার্থীদের চাপ কমে যায় এবং থিউরি ভিত্তিক না করে প্র্যাক্টিক্যাল ভিত্তিক পড়াশোনা করতে পারে। একই সাথে সহ-শিক্ষা কার্যক্রমেও যেনো শিক্ষার্থীরা সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার সময় এবং সুযোগ পেতে পারে।

বিগত সাফল্য

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় ২০তম স্থান অর্জন করেছিল উত্তরবঙ্গের এই কৃতি শিক্ষার্থী। ফাস্ট প্রফে ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি দুইটাতেই অনার্স মার্ক পেয়েছেন তিনি।

বেড়ে ওঠা

ফাবিহার গ্রামের বাড়ি উত্তরবঙ্গের রংপুর জেলায়। তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন। দুইবোনের মধ্যে বড় তিনি। রংপুরের দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ফাবিহা। তাঁর বাবা কর্ণেল ডা. ফেরদৌসুর রহমান একজন শিশু বিশেষজ্ঞ এবং শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। ফাবিহার মাতা নুরা নাহিদ জান্নাতুল ফেরদৌস রংপুর ক‍্যান্টপাবলিক  কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ‍্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এসএএইচ/এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : ডিএমসি
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

হামে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও শিশু মৃত্যুর দায়

ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক