০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৬:১৩ পিএম

সিএমইউর ফাইনাল প্রফে একমাত্র অনার্সধারী শ্রীলংকান শিক্ষার্থী সাভিন্দি

সিএমইউর ফাইনাল প্রফে একমাত্র অনার্সধারী শ্রীলংকান শিক্ষার্থী সাভিন্দি
ডা. ইয়েশমা সাভিন্দি মুদালিগামা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) অধিভুক্ত ১৬টি মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা নভেম্বর ২০২২ এ প্রথম স্থান অর্জন করেছেন শ্রীলংকার শিক্ষার্থী ডা. ইয়েশমা সাভিন্দি মুদালিগামা। ২০১৭-১৮ সেশনের ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় তিনিই একমাত্র অনার্স মার্ক ধারী শিক্ষার্থী, এবং সিএমইউর অধীনে তিনিই বিদেশি হিসেবে প্রথম অনার্স মার্ক পাওয়া শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিএমইউর এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন দেশি-বিদেশি ১ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেছেন ৮৩৭ জন, অনার্স মার্ক পেয়েছেন মাত্র এক জন শিক্ষার্থী। 

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা এমবিবিএস ফার্স্ট প্রফেও অনার্স মার্ক পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে আসেন সেভেন্দি। ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক)। এখন শুধু তাঁর স্বপ্ন-ই পূরণ হয়নি, মেডিকেলে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার রেকর্ডও করেছেন তিনি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে শ্রীংলকার রাজধানী কলম্বো থেকে মুঠোফোনে ডা. সাভিন্দির সঙ্গে কথা হয় মেডিভয়েস প্রতিবেদকের। আলাপচারিতায় উঠে আসে চিকিৎসা পেশা ঘিরে তাঁর পরিকল্পনাসহ ঈর্ষণীয় সাফল্যের নেপথ্য কথা। মুঠোফোনে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সাখাওয়াত হোসাইন

মেডিভয়েস: এক হাজারেরও বেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীর মাঝে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন, আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: আমার কাছে খুব ভালো লাগছে, সেই সঙ্গে গর্ববোধ করছি। ভালো ফলাফল করবো আশা করেছি, তবে প্রথম হবো কিংবা এতো ভালো ফলাফল করবো তা আশা করিনি। আমার এ ফলাফলে আব্বু-আম্মুসহ পরিবারের সদস্যরা অনেক খুশি হয়েছেন।

মেডিভয়েস: আপনার পড়াশোনার কৌশল কেমন ছিল?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: প্রথম থেকে আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতাম। টেক্সবুকের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। লেকচারগুলো ফলো করেছি। স্যারদের অনুসরণ করতাম, ক্লিনিক্যাল ক্লাসের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

মেডিভয়েস: ভিন্ন দেশে ও ভিন্ন কালচারে এসে এতো ভালো করলেন, আসলে আপনার অনুপ্রেরণার গল্পটা জানতে চাই?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: ছোটবেলা থেকে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা। ডাক্তার হতে হবে, বিষয়টা কিভাবে মাথায় ডুকছে, সেটা জানি না। আমার মনে আছে, ছোটবেলা থেকে একটা পরিকল্পনা ছিল চিকিৎসক হতে হবে। এজন্য আমি সাইন্সে পড়াশোনা করেছি। চিকিৎসক সম্মাজনক পেশা হওয়ায়, এর প্রতি টান জন্মায়। আব্বু-আম্মু অনুপ্রেরণা দিয়েছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।

মেডিভয়েস: পরিবার ছেড়ে বেশ লম্বা সময় বাংলাদেশে থেকেছেন, এ সময় আত্মীয়-স্বজনের কথা মনে পড়লে কেমন লাগতো? কার কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছিল?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: সব সময় আব্বু-আম্মুর কথা মনে পড়তো। তাদেরকে সবচেয়ে বেশি মিস করেছি। তারা সবসময় পড়াশোনা মনোযোগী হতে এবং নিজের আত্ম-সম্মান রক্ষা করে চলাফেরা করার জন্য বলতেন।

মেডিভয়েস: বাংলাদেশে মেডিকেল পড়া কেমন উপভোগ করেছেন?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: মেডিকেল লাইফে সবাই পড়াশোনা করে, কিন্তু আমি পড়াশোনার সাথে সহ-পাঠ্যক্রমেও অংশগ্রহণ করেছি। খেলাধুলা, নাচ ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করেছি। বাংলাদেশের স্থানীয় খাবারগুলো আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সবকিছুর ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছি। শুক্রবারে খাবার রান্না করতাম। এ ছাড়া মাঝে মাঝে ঘুরতেও যেতাম বন্ধুদের সাথে। সাজেক, সেন্ট মার্টিন ইত্যাদি জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি।

মেডিভয়েস: আপনার শিক্ষকদের অবদান কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: প্রথম বর্ষ থেকে শিক্ষকরা আমাদেরকে খুব গুরুত্ব দিয়ে পড়িয়েছেন। শুধু আমাকে নয়, সব বিদেশিদেরকেই গুরুত্ব দিতেন শিক্ষকরা। স্যার, ম্যামরা তাদের বাচ্চাদের মতো করে আমাদের সাথে ব্যবহার করতেন। যেকোনো সমস্যায় পড়লে আমার স্যার আর ম্যামদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সমাধান হয়ে যেত। সবাইকে আমাদের বেশি বেশি সহযোগিতা করতেন। আর দেশ থেকে বাহিরে আছি, এমন অনুভূতি কখনও মনে হতো না, স্যার ম্যামদের আচার ব্যবহারের কারণে। শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমার মেডিকেল জার্নিটা সফল হয়েছে। আমার ব্যাচমেটগুলো অনেক সহায়ক ছিল, তাঁদের জন্য এখন আমি বাংলাতে কথা বলতে পারি। ব্যাচমেট এবং বন্ধুদের সহযোগিতা আমার জীবন চলার পথে পাথেয় হয়ে থাকবো, তাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা ছাড়া এতো ফলাফল সম্ভব হতো না। এ ছাড়া ডিপার্টমেন্টের স্টাফরাও অনেক সহযোগিতা ছিলেন, সেইসঙ্গে তাঁরা খুবই আন্তরিক ছিলেন। আমার এ ফলাফলে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহেনা আকতার, মেডিকেলের অধ্যাপকবৃন্দ, সিনিয়র এবং জুনিয়রসহ সবার প্রতি আমি অনেক বেশি কৃতজ্ঞ।

মেডিভয়েস: কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে চান?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: সার্জারি আমার কাছে ভালো লাগে। একজন ভালো সার্জন হওয়ার ইচ্ছা। এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। সার্জারির ভিডিও দেখতাম, তখন অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করতো।

মেডিভয়েস: বাংলাদেশে যারা মেডিকেলে পড়তে আসতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কি বলবেন?

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: এমবিবিএস কোর্সটা হলো একটা দীর্ঘ জার্নি। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থাটা অনেক সুন্দর ও অতুলনীয়। প্রথম বর্ষ থেকে আইটেম, কার্ড সব কিছুই পড়ানো হয়। তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল শিক্ষাটাও দেওয়া হয়। এখানে হাসপাতালে বেশি বেশি রোগী ভর্তি থাকে, যা মেডিকের শিক্ষার জন্য সহায়ক। অধ্যাপকরাও আন্তরিক। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও গ্রুপ স্টাডি করে ভালো ফলাফল করা যায়। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার মান ভালো শুধু তাই নয়, এখানে হোস্টেলের পরিবেশ ও খাবারসহ সব কিছুরই মান ভালো।

মেডিভয়েস: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই।

ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা: আমার ইচ্ছা অভিজ্ঞতা অর্জন করে ভালো চিকিৎসক হওয়া। চিকিৎসক হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়বো। আমার দ্বারা যাতে মানুষের উপকার হয়, সেই কাজগুলো করবো। দেশ-বিদেশে সব মানুষের সেবা করতে চাই। কিছুদিন পর ইন্টার্ন করবো, এরপর পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার ইচ্ছা আছে। আব্বু-আম্মুর দায়িত্ব পালন করার একটা বিষয় আছে, তাদের দায়িত্ব পালন এবং অনুমতি নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করবো।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

১৯৯৭ সালে ১০ আগস্ট শ্রীংলকার রাজধানীর কলম্বোতে জন্ম গ্রহণ করেন ডা. সাভিন্দি মুদালিগামা। তাঁর বাবা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মা গ্রহিনী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় তিনি। তাঁর ছোট ভাই দুশান মুদালিগামা কলম্বোতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

এএইচ

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : সিএমইউ
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক