সিএমইউর তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষায় কক্সমেকের সুমাইয়ার নতুন রেকর্ড
গত ৮ মার্চ প্রকাশিত চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষায় নতুন রেকর্ড গড়েছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের (কক্সমেক) ২০২১-২২ শিক্ষার্থী উম্মে সুমাইয়া। তাঁর আগে পুরাতন কারিকুলামে থার্ড প্রফে ফার্মাকোলজি ও মাইক্রোবায়োলজিতে অনার্স পেয়ে সিএইউতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন ২০১৮-১৯ সেশনের ছাত্র মোহাম্মদ আল হিশাম। এবার তাকে ছাড়িয়ে নতুন কারিকুলামে থার্ড প্রফের তিনটি বিষয়েই (প্যাথোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, কমিউনিটি মেডিসিন) অনার্স পেয়ে নতুন রেকর্ড করেছেন কক্সমেক-১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া।
অতুলনীয় ফলাফলের পর অনুভূতি
অবিশ্বাস্য এই রেজাল্ট নিয়ে জানতে চাইলে তিনি মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া তিনি আমাকে এই সাফল্য অর্জনের তৌফিক দিয়েছেন। সত্যি বলতে, শুরুতে আমার বিশ্বাস হয়নি। আসলে এই ফলাফলটা আমার একার ধরে নিলে বিশ্বাস হওয়ার কথাও না। বাবা-মায়ের দোয়া, আমার শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, সহপাঠীদের সাহায্য আর শেষে আমার অল্প একটু ধৈর্য্য ও পরিশ্রম; সবকিছু মিলিয়ে এই ফলাফল।
সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব শিক্ষকদের
এ ফলাফলের পিছনে কাকে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিবেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিব আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণদের। কারণ মেডিকেলের সিলেবাস বিশাল। ঠিক কতটুকু পড়তে হবে তার সম্পূর্ণ ধারণা তাঁরা।
পড়াশোনার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা
পড়াশোনার ব্যাপারে আগ্রহ পেতেন কোথায়—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পড়াশোনার ব্যাপারে মোটিভেশন একটাই, ‘আল্লাহ্ কখনো কারো উপর সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ আমি ফাঁকি দিয়ে কিচ্ছু পড়তে চাইনি কখনো। আবার পৃথিবীর সবকিছু জানা সম্ভব নয়। তবে যেটুকুতে ফাঁকি দিলে আমার জ্ঞান প্রশ্নবিদ্ধ হবে, সে রাস্তায় যেন কখনো না থাকি, এইটুকুকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছি। ফলাফল কী সেটা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। কখনো ভালো, কখনো খারাপ হয়েছে। কিন্তু এ কারণে ডিপ্রেশনও আসেনি তেমন।
কখনো কী সহপাঠীদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হয়েছেন কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিক ব্যঙ্গবিদ্রুপ নয়, তবে মজাচ্ছলে তো অনেকে বলে। সেটাকে আমি মজা হিসেবে নিয়েছি। একই সময়ে ওরাই পরিবারের মতো পাশে থেকেছে।’
কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে আগ্রহী
ভবিষ্যতে নিজেকে কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার আগ্রহী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সেভাবে কোনো বিষয়ের প্রতি তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়নি। তবে ইন্টার্নাল মেডিসিন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে। পুরোটা আল্লাহ্ যা তাকদ্বিরে রেখেছেন, তেমন।
এ বিষয়ে আগ্রহের কারণ তুলে ধরে তিনি দেন, ইন্টার্নাল মেডিসিন একটামাত্র টপিকে কাজ করে না। সব সিস্টেমকে ইনক্লুড করে। কো-রিলেশন ব্যাপারটা খুব পছন্দের। সেখান থেকেই এই সাব্জেক্ট। তবে এ ক্ষেত্রে ‘জ্যাক অব অল, মাস্টার অব নান’ হওয়ার সম্ভবনা এসে গেলে আমি নির্দিষ্ট একটা সিস্টেম ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে চলে যাবো।
পড়াশোনা
উম্মে সুমাইয়া বাবুনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, এরপরে সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। স্কুলে পড়ার সময় পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বৃত্তি পান তিনি। আর কলেজে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার প্রভাব এসে পড়েছিল ভর্তি পরীক্ষায়। মেরিট ছিল ৩৩১৫।
এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া বলেন, ‘তখন মন খারাপ থাকলেও এখন বুঝি, এই ক্যাম্পাস আমার জন্য রহমতস্বরূপ। মেডিকেলে অর্জন বলতে এর আগে এনাটমিতে অনার্স মার্ক পেয়েছিলাম। এইটুকুই আমার গল্প।’
বেড়ে উঠার গল্প
সুমাইয়া বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায়। বেড়ে উঠাও ফটিকছড়িতে। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। ছয় বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
একজন ভালো মানুষ এবং ডাক্তার হওয়ার জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এমইউ/